জাফর ইকবাল ও সাবেক ঢাবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম


জাফর ইকবাল ও সাবেক ঢাবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ছবি: সংগৃহীত

০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগের মামলায় সাবেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এস এম মাকসদ কামাল, শিক্ষাবিদ ও লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ (আইসিটি-১)।

রোববার ট্রাইব্যুনাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আট আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। একই সঙ্গে আগামী ২১ অক্টোবর আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া পাঁচ আসামি হলেন—সাবেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামাল, জাফর ইকবাল, সাবেক বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ এনান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মজহারুল কবির শায়ান।

অন্য তিন আসামি হলেন সাবেক আপিল বিভাগের বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ কে এম জামাল উদ্দিন এবং সাবেক ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, তারা এরই মধ্যে কারাগারে রয়েছেন।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে জমা দেয়। ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় উসকানি, ষড়যন্ত্র, হামলার চেষ্টা ও সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে আটজনের বিরুদ্ধে। ওই আন্দোলন পরবর্তী সময়ে বৃহত্তর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অংশ হয়ে ওঠে।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, মাকসুদ কামাল উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন এবং এমন একটি ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন, যা ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতা-কর্মী ও পুলিশের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় ভূমিকা রাখে।

জাফর ইকবাল ও অধ্যাপক এ কে এম জামাল উদ্দিনের বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ হিসেবে উল্লেখ করা এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করার অভিযোগও করেছে প্রসিকিউশন। তবে এগুলো প্রসিকিউশনের অভিযোগ, যা এখনো ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত হয়নি।

মামলাটি ২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। প্রসিকিউশনের তথ্য ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত সমসাময়িক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫ জুলাইয়ের ওই সহিংসতায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছিলেন।

আসামিদের কথিত ভূমিকা নিয়ে তদন্তের সময় সংগ্রহ করা তথ্য ও নথিপত্রের ভিত্তিতে প্রসিকিউশনের মামলাটি তৈরি করা হয়েছে। আগস্টে আটজনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়। এরপর সেপ্টেম্বরে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়।

রোববারের আদেশের মধ্য দিয়ে এই মামলায় আট আসামির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলো। তবে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো বিচারিকভাবে পরীক্ষা করা হয়নি এবং আইনগত প্রক্রিয়ায় দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

Ads