প্রধান মন্ত্রীর জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা : বান্দরবানে খাদ্য সংকট

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

২৯ মে ২০১৬, ১১:২৫ পিএম


প্রধান মন্ত্রীর জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা : বান্দরবানে খাদ্য সংকট

।। প্রধান মন্ত্রীর জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা ।।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলার দুর্গম এলাকা থানচিতে খাদ্য সংকটসংকটাপন্ন এলাকাগুলোতে তিন দফায় ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং জেলা প্রশাসন কর্তৃক ১৪৬ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম তা নিশ্চিত করেছে। খাদ্য-সামগ্রী সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ও বোট দিয়ে থানচির রেমাক্রি ও বড় মদকে পাঠানো হচ্ছে। বান্দরবান জেলা প্রশাসন আগামী মঙ্গলবার সকাল থেকে স্খাদ্য সংকটাপন্ন স্থানীয়দের মাঝে জেলা প্রশাসক চাউল বিতরণ করবেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি আশাবাদীর খবর হলেও এই ত্রাণ বিতরণটি কাগজে কলমে বিতরণ না হয় সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সঠিক তদারকি দরকার। ঐ এলাকায় দায়িত্বরত সকল সাহায্য নিয়ে যাওয়া সংস্থাগুলোর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সার্বক্ষনিক পর্বেক্ষনের  জন্য নিজস্ব একটি দল পাঠানো এই মুর্হূতে একটি মানবিক দাবী। অনেকে প্রশ্ন করতে পারে কেন এই ধরনের  দাবী উত্থাপিত হবে; কারণ আমরা অতীত সময়কালের কথা ভুলে গেলেও  ইতিহাস স্বাক্ষী দেয় যে ত্রাণ সামগ্রী অধিকাংশ সময় কাগজে কলমে বিতরণ হয়। বর্তমানে থানচি’র খাদ্য সংকটসংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব অবহেলা অথবা লোভ-লালস ক্ষুর্ধাত্ব মানুষদের কামনা নয়। যার জন্য

গত বছর আবহাওয়া প্রতিকুলতার কারণে জুম-ফসলের ফলন ভাল হয়নি বলে চলমান বছরের মার্চ থেকে খাদ্য সংকটে পড়ে দুর্গম এলাকাবাসী ছোট মদক, বড় মদক, রেমাক্রি, তিন্দু, ও সাঙ্গু রিজার্ভ ফরেস্ট এলাকাবাসীন্দাদের। ঐ এলাকার জনসাধারন অনেকেই ভাতের অভাবে জংগলের বিভিন্ন ধরণের আলু, কুমড়া ও নানা ধরনের ফলমূল, গাছগাছালি খেয়ে ক্ষুধা মেটালেও অধীকাংশ মানুষ অধাহারে-অনাহারে বাঁচার জন্য যুদ্ধ করছে। যতটুকু ত্রান

মং প্রু অং মারমা, চেয়ারম্যান, ২নং তিন্দু থানচি ইউনিয়ন বলেন বেশ কয়েকটি এলাকা অতিদুর্গম এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, ঐ এলাকায় প্রায় ৬/৭ শত পরিবার খাদ্য সংকটে ভুগছে।

থানচি উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অতি দুর্গম রেমাক্রী ও তিন্দু ইউনিয়নের প্রতিটি ঘরের চিত্র এখন একই। গত বছর যেটুকু ধান পেয়েছেন তা ২/৩ মাসেই শেষ হয়ে যাওয়ায় খাদ্য সংকটের কবলে আছে আড়াই হাজার পরিবার। প্রতিটি পরিবারে নানা জাতের ফলজ বাগান রয়েছে কিন্তু সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকার কারণে বাজারজাতের সুযোগ না থাকায় গাছেই ফল পচে যায়। ফলে জুমের ফলনের উপর নির্ভর করতে হয় সকলকে।

জুমের ধান হলে মুখে হাসি থাকে, আর ধান না হলে দূর্ভিক্ষের ছাপ লেগে থাকে সকলের চোখে মুখে। বর্ষার কারনে আগামী তিন মাস সারা দেশের সাথে দূর্গম এলাকাগুলোর অর্ধশতাধিক গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। তখন এই সংকট আরো প্রকট হয়ে উঠবে। ইতিমধ্যে অনেকগুলো পরিবার সংকটাপন্ন। তাই সরকারী-বেসরকারী ভাবে জরুরী ভিত্তিতে ত্রান চায় স্থানীয়রা।

Ads