প্যানেল চেয়ারম্যান সংকটে অচল মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম

মনোয়ারুল ইসলাম

২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:০৯ পিএম


প্যানেল চেয়ারম্যান সংকটে অচল মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম

 

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের দৈনন্দিন কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকায় পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে, এতে সাধারণ জনগণ চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।

ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম প্রধানকে গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে উপজেলা বিএনপির অফিস ভাঙচুরের মামলায় গ্রেপ্তার করে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ। এরপর তাকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকায় পরিষদের কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার জন্য প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচনের প্রয়োজন দেখা দেয়। তবে পূর্ববর্তী প্যানেল বাতিল করে নতুন প্যানেল গঠনের দাবি ওঠায় পরিষদের কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে স্থগিত হয়ে গেছে।

ইউপি সদস্যদের মতে, চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতি এবং নতুন প্যানেল চেয়ারম্যান অনুমোদন না হওয়ায় ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজ থমকে গেছে। জন্মনিবন্ধন সনদ, মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ সনদ, ট্রেড লাইসেন্স এবং পরিচয়পত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ইউনিয়নবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

জন্মনিবন্ধন সনদ না পাওয়ায় অনেক শিশু ও যুবকের ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া আটকে গেছে। ইউপি সদস্যরা জানান, চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর ও সীল প্রয়োজনীয় হওয়ায় ইউনিয়নের বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড অনুমোদনেও জটিলতা দেখা দিতে পারে। এতে সুবিধাভোগীরা সরকারের দেওয়া অনুদান থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।

মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের কয়েকজন ভোটার জানান, জন্মনিবন্ধন ও নাগরিকত্ব সনদ না পাওয়ায় তাদের সন্তানদের ভোটার হতে সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণে তারা চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন। তারা জেলা প্রশাসকের কাছে দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন এবং অবিলম্বে নতুন প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. নুর ইসলাম বলেন, "উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশনা ছাড়া অফিসের কাজ সচল রাখা সম্ভব নয়। জন্মনিবন্ধনসহ অন্যান্য কার্যক্রম চেয়ারম্যানের ইউজার আইডি ব্যবহার করেই সম্পন্ন করতে হয়। এছাড়া বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, প্রত্যয়ন প্রদান এবং গ্রাম্য আদালত পরিচালনাও চেয়ারম্যানের এখতিয়ারে পড়ে। ফলে নতুন প্যানেল চেয়ারম্যান না থাকায় পরিষদের কর্মকাণ্ড একপ্রকার বন্ধ হয়ে গেছে।"

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, "চেয়ারম্যান না থাকায় সৃষ্ট জটিলতার বিষয়টি নিয়ে আমরা জেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। পরবর্তী নির্দেশনা মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

সাধারণ জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি মাথায় রেখে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা চান, যত দ্রুত সম্ভব নতুন প্যানেল চেয়ারম্যান অনুমোদন দিয়ে পরিষদের কার্যক্রম সচল করা হোক, যাতে তারা পুনরায় প্রয়োজনীয় সরকারি সেবা পেতে পারেন।

 

Ads