সতর্ক থাকুন, কেউ যেন বিশৃঙ্খলা করতে না পারে: দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রী
২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, গণভোট এবং 'জুলাই সনদ' নিয়ে ষড়যন্ত্র করে কেউ যেন দেশে নতুন করে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জনগণের শান্তি ও উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বাধা সৃষ্টিকারীদের কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে যশোরের শার্শা উপজেলার ঐতিহাসিক উলসী-যদুনাথপুর এলাকায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন যে, একটি কুচক্রী মহল রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার পাঁয়তারা করছে। তিনি বলেন, "আমরা দেশের মানুষের শান্তি চাই, বিশৃঙ্খলা নয়। যারা জনগণের রায়কে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।" তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন যে, জনগণের শক্তির ওপর ভিত্তি করে কোনো ভয়ভীতি বা অপকৌশল দিয়ে বাংলাদেশকে আর পিছু হটানো সম্ভব নয়।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে 'জুলাই সনদ' এর গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, গত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে এই সনদে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, দক্ষিণ প্লাজায় রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে সই করা এই জুলাই সনদের প্রতিটি লাইন ইনশাল্লাহ সংসদে পাস করা হবে। তিনি আরও বলেন, "জনগণ ভোটের মাধ্যমে যে রায় দিয়েছে, আমরা তিলে তিলে রক্ত দিয়ে হলেও সেই প্রতিশ্রুতি পালন করব"।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশের ২০ কোটি মানুষের '৪০ কোটি হাত'-কে দেশ গড়ার কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। উলসী খালের গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, গত ৫০ বছর ধরে অবহেলিত এই খাল পুনঃখননের ফলে এলাকার হাজার হাজার কৃষক উপকৃত হবেন এবং খাদ্য উৎপাদন বাড়বে। এ সময় তিনি সারা দেশে আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার 'জিয়া খাল' পুনঃখননের একটি মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন
সরকারের ১০০ দিনের কাজের খতিয়ান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। এছাড়াও তিনি নারী শিক্ষার উন্নয়নে ডিগ্রি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা, অসহায় নারী প্রধান পরিবারগুলোর জন্য মাসিক ২,৫০০ টাকার সহায়তা এবং রান্নার সুবিধার্থে বিশেষ এলপিজি কার্ড প্রদানের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, "আমাদের অগ্রাধিকার হলো মা-বোনদের শিক্ষা, শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা"।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তারেক রহমান সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি তার সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, একটি জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার প্রথম শর্তই হলো অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা। তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধ থেকে নতুন বাংলাদেশ গড়ার এই মহাযজ্ঞে শামিল হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।
যশোর জেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও কয়েক লাখ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। জনসভাকে কেন্দ্র করে পুরো যশোর ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।






















