পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাংলাদেশ

রূপপুরে বিকালে শুরু হচ্ছে ‘জ্বালানি লোডিং’ কার্যক্রম

অয়ন আহমেদ

২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১২ এএম


রূপপুরে বিকালে শুরু হচ্ছে ‘জ্বালানি লোডিং’ কার্যক্রম

 

ক দশকের দীর্ঘ অপেক্ষা, বিশাল অবকাঠামো নির্মাণ আর জটিল সব কারিগরি ধাপ পেরিয়ে আজ এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে পদার্পণ করছে বাংলাদেশ।

আজ সোমবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পরমাণু জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং কার্যক্রম। এর মাধ্যমে পরমাণু শক্তিকে শান্তিবাদী কাজে ব্যবহারকারী দেশগুলোর অভিজাত ক্লাবে নিজের অবস্থান সুসংহত করল লাল-সবুজের বাংলাদেশ।

প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে, গত ১৬ এপ্রিল পরমাণু চুল্লিতে জ্বালানি প্রবেশের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স পাওয়ার পর যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আজকের এই মাহেন্দ্রক্ষণকে ঘিরে প্রকল্প এলাকায় বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রূপপুরের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা ‘রোসাটম’-এর মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ ১৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে আজ সকালে ঢাকা এসে পৌঁছেছেন।

সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে রোসাটম ডিজি হেলিকপ্টারে রূপপুর প্রকল্পে পৌঁছাবেন। সেখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং রাশিয়ার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। উল্লেখ্য, এই স্পর্শকাতর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৫৯ জন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মানের অপারেটিং লাইসেন্স লাভ করেছেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগবে। সবকিছু ঠিক থাকলে জুলাই মাসের শেষ দিকে বা আগস্টের শুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে। বছরের শেষ নাগাদ বা আগামী বছরের শুরুতে প্রথম ইউনিট থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় ১২০০ মেগাওয়াট নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা ও কারিগরি মানদণ্ড বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক গাইডলাইন অনুযায়ী বেশ কয়েকবার সময়সীমা পুনর্নির্ধারণ করা হলেও বর্তমানে রূপপুর প্ল্যান্ট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। জ্বালানি খাতের এই মেগাপ্রকল্পটি দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি শিল্পায়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

Ads