ঢাকা শহরকে ‘ক্লিন ও গ্রীন সিটি’ করতে ১২ দফা ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৭ এএম
রাজধানী ঢাকাকে একটি আধুনিক, দূষণমুক্ত এবং বসবাসযোগ্য ‘ক্লিন এবং গ্রীন সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে ১২ দফা মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২৮ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ঢাকা আমাদের প্রাণের শহর। এই শহরকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজে ঘেরা নগরী হিসেবে রূপান্তর করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে আমরা দ্রুততম সময়ে এই ১২ দফা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছি।”
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে কোরিয়াভিত্তিক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে একটি সমন্বিত সার্কুলার ইকোনমি ভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রে রূপান্তর করা হচ্ছে। এর ফলে ল্যান্ডফিলের সমস্ত বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন করা হবে, যা ঢাকাকে ‘জিরো ওয়েস্ট’ বা বর্জ্যহীন শহরের দিকে নিয়ে যাবে। এছাড়াও সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনগুলোকে (এসটিএস) ল্যান্ডস্কেপিং ও গ্রাফিতির মাধ্যমে দৃষ্টিনন্দন ও পরিবেশবান্ধব করার কাজ চলছে।
প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত কর্মপরিকল্পনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- শহরের খালি জায়গায় বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়ন, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, মশক নিধনে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সাপ্তাহিক জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি। তিনি বলেন, “কেবল সরকারি উদ্যোগ নয়, শহরকে পরিষ্কার রাখতে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। যত্রতত্র ময়লা না ফেলা এবং নিজ নিজ আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখার মানসিকতা তৈরি করতে আমরা প্রচার জোরদার করছি।”
শহরকে ‘গ্রীন’ করার লক্ষ্যে ফুটপাত ও সড়ক বিভাজকে পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সাথে নগরের জলাশয়গুলো উদ্ধার করে সেগুলোর চারপাশ সাধারণ মানুষের চলাচলের উপযোগী ও সবুজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, “পরিকল্পিত এই ১২ দফা কার্যক্রম বাস্তবায়ন হলে ঢাকা হবে এশিয়ার অন্যতম পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক মেগাসিটি। বর্তমান সরকারের এই সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই নগরবাসী একটি দৃশ্যমান পরিবর্তন অনুভব করবেন।”
প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা সংসদ সদস্যদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি করে। পরিবেশবাদী ও নগর পরিকল্পনাবিদগণ সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং আধুনিক সবুজায়নের এই উদ্যোগ ঢাকার দীর্ঘদিনের পরিবেশগত সংকট নিরসনে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।






















