উন্নয়নের নামে দেশ দেউলিয়া হয়েছিল

বর্তমান সরকারের সেই ফাঁদে পড়ার প্রয়োজন নেই’- মাহমুদুর রহমান

অয়ন আহমেদ

১৫ মে ২০২৬, ০৮:১৩ এএম


বর্তমান সরকারের সেই ফাঁদে পড়ার প্রয়োজন নেই’- মাহমুদুর রহমান

 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে উন্নয়নের নামে দেশকে দেউলিয়া করে দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সেই একই ‘উন্নয়নের ফাঁদে’ পড়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অ্যান্ড থটস’ আয়োজিত এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ড. মাহমুদুর রহমান দেশের বিগত মেগা প্রকল্পগুলোর তীব্র সমালোচনা করে সেগুলোকে ‘উন্নয়নের ফ্যালাসি’ বা বিভ্রান্তি বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুতে রেললাইন স্থাপন, কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ এবং গাজীপুর-এয়ারপোর্ট বিআরটিএ-এর মতো প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় করা হয়েছে। এই ধরনের অপ্রয়োজনীয় ও কম লাভজনক প্রকল্প দেশের অর্থনীতিকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে। বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো খাতে নতুন বিনিয়োগ করার আগে সেখান থেকে 'রেট অব রিটার্ন' বা প্রকৃত অর্থনৈতিক লাভ কী আসবে, তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে।

বাজেট প্রণয়ন ও অর্থনৈতিক কাঠামোর সংস্কার নিয়ে গঠনমূলক পরামর্শ দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের উচিত বাজেটের আকার কত বড় হলো, সেই সংখ্যার দিকে না তাকিয়ে গুণগত মান বা কোয়ালিটির দিকে নজর দেওয়া। কেবল জিডিপি (GDP) প্রবৃদ্ধির কৃত্রিম লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের চেয়ে সরকারের মূল ফোকাস হওয়া উচিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) চলমান বিশাল আর্থিক লিকেজ ও দুর্নীতি বন্ধ করা। এডিপি-র প্রকল্পগুলোতে প্রচুর অপচয় হয়, যা কঠোর হস্তে দমন করা জরুরি।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক এ কে এম ওয়ারেসুল করিম, এবং সভাপতিত্ব করেন সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অ্যান্ড থটসের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুর রব। আলোচনায় অংশ নিয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ দেশের বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, রাজস্ব ঘাটতি কমানো এবং বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে টেকসই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার তাগিদ দেন। এছাড়া, জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে জনকল্যাণমুখী ও বাস্তবসম্মত অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়।

 

Ads