কমবে নগদ টাকার ব্যবহার ও প্রতারণা

১ জুলাই থেকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে ‘বাংলা কিউআর’

নয়ন তারা

২৬ জুন ২০২৬, ১২:২৪ পিএম


১ জুলাই থেকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে ‘বাংলা কিউআর’

 

দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসারে এবং ক্যাশলেস সোসাইটি বিনির্মাণে বড় ধরনের এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে সারা দেশে বাধ্যতামূলকভাবে চালু হতে যাচ্ছে সর্বজনীন আন্তঃলেনদেন ব্যবস্থা ‘বাংলা কিউআর’। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা, এই উদ্যোগের ফলে দেশের সামগ্রিক আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থায় নগদ অর্থের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে, পাশাপাশি লেনদেনের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠানে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই তথ্য জানান। তারা উল্লেখ করেন, নতুন এই ব্যবস্থা চালুর ফলে একদিকে যেমন আর্থিক প্রতারণার ঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা সঞ্চার হবে।

এতদিন পর্যন্ত দেশের খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতাদের তাদের দোকানে বিকাশ, রকেট, নগদ কিংবা বিভিন্ন ব্যাংকের জন্য আলাদা আলাদা কিউআর কোড প্রদর্শন করতে হতো, যা ছিল বেশ ঝামেলার। তবে সর্বজনীন ‘বাংলা কিউআর’ চালুর ফলে এখন থেকে বিক্রেতাদের দোকানে থাকবে মাত্র একটিমাত্র কিউআর কোড। আর গ্রাহকরা তাদের সুবিধামতো যেকোনো ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) অ্যাপ ব্যবহার করে সহজেই পেমেন্ট করতে পারবেন। এর ফলে ছোট থেকে বড় সব ধরনের কেনাকাটা আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ হয়ে উঠবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার জানান, মূলত একটি সম্পূর্ণ নগদবিহীন সমাজ বা ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ার লক্ষ্য নিয়েই এই বড় উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “ডিজিটাল লেনদেনে সাধারণ মানুষের অভ্যস্ততা যত বাড়বে, সরকারের টাকা ছাপানোর খরচ ততটাই কমে আসবে। একই সঙ্গে পুরো আর্থিক খাতের লেনদেনে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”

আরেক ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান এই ব্যবস্থার বহুমুখী সুবিধার কথা উল্লেখ করে বলেন, “ফুটপাতের ক্ষুদ্র বিক্রেতা, টং দোকান থেকে শুরু করে বড় বড় শপিংমল—সর্বত্রই ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। এতে ব্যবসায়ী ও গ্রাহক উভয়ের ক্ষেত্রেই নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি কমবে। পাশাপাশি লেনদেন নিয়মের মধ্যে আসায় সরকারি রাজস্ব আয়ও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।”

তবে দেশে ডিজিটাল লেনদেনের প্রসার দ্রুত বাড়লেও এর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী ২০২৫ সালে ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে ৮১ হাজার ৪২৩টি প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে গ্রাহকদের প্রায় ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বিভিন্ন প্রতারক চক্র। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা সাধারণ গ্রাহকদের লেনদেনের সময় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার এবং কোনো অবস্থাতেই নিজের ব্যক্তিগত পিন (PIN) বা ওটিপি (OTP) অন্য কারও সাথে শেয়ার না করার জন্য কঠোর পরামর্শ দিয়েছেন।

Ads