জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তরে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী
১২ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৮ এএম
বাংলাদেশে বিদ্যমান বিপুল কর্মক্ষম জনসংখ্যাকে দেশের অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, এই বিশাল 'ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড' (জনমিতিক লভ্যাংশ) বিশ্বের আর কোথাও নেই। এই সুযোগকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ আর পিছিয়ে থাকবে না। আর সেজন্যই দেশের এই বিশাল জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেছে।
আজ গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়ামে আয়োজিত 'নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম-২০২৬' এ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতাকালে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানান এবং দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।
শিক্ষাক্ষেত্রে সময় অপচয়ের তীব্র সমালোচনা করে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, আমাদের দেশে সাধারণত এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার পর ফল প্রকাশ এবং উচ্চশিক্ষায় ভর্তির প্রক্রিয়াগত কারণে শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে প্রায় দুই বছর সময় নষ্ট হয়ে যায়। এটি একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য অত্যন্ত বড় ক্ষতি। এই দীর্ঘ সময় অপচয়ের ফলেই আমরা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুবিধা সফলভাবে কাজে লাগাতে পারছি না।
এই সংকট উত্তরণে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার পর শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় যেন কোনোভাবেই নষ্ট না হয়, সেজন্য ইতিমধ্যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া উচ্চশিক্ষার বিদ্যাপীঠ অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেন কোনো ধরনের সেশন জট না থাকে, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশ দেন তিনি।
দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষির ওপর জোর দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের কৃষি খাতকে আরও আধুনিক ও উন্নত করতে হবে। সনাতন পদ্ধতির বাইরে গিয়ে এখন কৃষি ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী প্রযুক্তি এবং আধুনিক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বহুগুণ বৃদ্ধি করা সময়ের দাবি। আর এই প্রযুক্তিগত রূপান্তরে দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অগ্রণী ও নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য (গাজীপুর-২) এম মঞ্জুরুল করিম রনি। তিনি তাঁর বক্তব্যে গাজীপুরের শিক্ষা ও কৃষির উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও তরুণ সমাজকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ডক্টর জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এই ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং নবীন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে পৌঁছালে শিক্ষামন্ত্রীকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়। এরপর তিনি প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত 'আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ' ঐতিহাসিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশব্যাপী চারা রোপন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নিজে একটি গাছের চারা রোপন করেন।






















