একযোগে দেশ গড়ার ডাক প্রধানমন্ত্রীর, বরিশালে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন
১৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
জাতীয় ঐক্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় দেশের সর্বস্তরের মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত দিনের গণ-আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কদিন আগেই ধর্ম-বর্ণ ও দলমত নির্বিশেষে সকলে মিলে দেশ থেকে স্বৈরাচার হটিয়েছি। এবার আসুন, আমরা সবাই মিলেমিশে দেশের উন্নয়নের জন্য, মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করি। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে ভালো কাজগুলো করি, তবে তার সুফল দেশের প্রতিটি নাগরিক ভোগ করবে।
আজ বরিশালের ঐতিহাসিক ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি সংলগ্ন সাগরদী খালের পাড়ে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী জনসাধারণের প্রতি এই উদাত্ত আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী নিজে একটি নারিকেল গাছের চারা রোপণ করে কর্মসূচির সূচনা করেন। বৃক্ষরোপণ শেষে দেশের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
পরিবেশ রক্ষার লড়াইকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশের সুরক্ষা কেবল সরকার কিংবা সিটি কর্পোরেশনের একার দায়িত্ব নয়। এটি আমাদের সবার যৌথ দায়িত্ব। আসুন, আজকের এই বিশেষ দিনে আমরা সবাই মিলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই— আমরা আমাদের চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার ও সুন্দর রাখব। এটাই হোক আমাদের মূল অঙ্গীকার।
তিনি দেশের প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, আমাদের ঘরবাড়ি, অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ এবং হাসপাতালের আশেপাশের এলাকা যাতে কোনোভাবেই নোংরা না হয়, সেদিকে আমাদের নজর রাখতে হবে। প্রত্যেকে সচেতন হলে পুরো দেশের পরিবেশ চমৎকার ও সুন্দর থাকবে।
বরিশালের ঐতিহ্যবাহী সাগরদী খালের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই খালটি এলাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এর রক্ষণাবেক্ষণ শুধু সিটি কর্পোরেশনের ওপর ছেড়ে দিলে হবে না; খালের দুই পাড়ে বসবাসকারী এবং সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। অনেক সময় দেখা যায়, দর্শনার্থীরা প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন ও টিস্যু পেপার খালের পানিতে ফেলে দিচ্ছেন। সবার কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, আপনারা নিজেরা যেমন সচেতন থাকবেন, তেমনি অন্য কাউকেও খালের পানিতে ময়লা ফেলতে বারণ করবেন।
এ সময় পার্কের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশনের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সেখানে ডাস্টবিন বা ময়লা ফেলার বিন স্থাপন এবং বিকেলে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের সচেতন করতে মাইকিং করার পরামর্শ দেন।
খালের অপর পাড়ে যুক্ত হওয়া একটি পাইপের দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাসা-বাড়ির সুয়ারেজ বা ব্যবহৃত পানির লাইন সরাসরি খালে যুক্ত করা কোনোভাবেই ঠিক নয়। এতে পানি দূষিত হয় এবং সামগ্রিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি সিটি কর্পোরেশনকে দ্রুত সুপরিকল্পিত ড্রেনেজ সিস্টেম গড়ে তোলার অনুরোধ জানান।
প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, আমরা যদি নিজেদের ঘর নিজেরা গুছিয়ে না রাখি, তবে যেমন ঘর নোংরা হয়ে যায়; ঠিক তেমনি নিজের এলাকা, পাড়া বা দেশের পরিবেশ রক্ষা না করলে তার ভুক্তভোগী কিন্তু আমরাই হবো। আমরা অন্য দেশের সুন্দর সুন্দর জায়গা দেখে আফসোস করব, অথচ নিজেদের সম্পদ নিজেরাই নষ্ট করব— এটা হতে পারে না।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সাথে খালের দুই পাড়ে গাছের চারা রোপণ করেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, নৌ প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মাসুদ আহমেদ তালুকদার এবং সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
কর্মসূচি চলাকালীন উপস্থিত নেতাকর্মীরা ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’, ‘এক জিয়া লোকান্তরে, লক্ষ জিয়া ঘরে ঘরে’ এবং ‘জিয়ার সৈনিক এক হও, এক হও’ স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলেন।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী বরিশাল সার্কিট হাউসে গমন করেন এবং সেখানে মধ্যাহ্নভোজ ও জোহরের নামাজ আদায় করেন। সফরের শেষভাগে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় দলীয় নেতৃবৃন্দের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী।






















