২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার না দেখালে ঘটনা ‘গুম’ হিসেবে গণ্য হবে: চিফ প্রসিকিউটর
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক কোনো ব্যক্তিকে আটক করার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির করে গ্রেপ্তার না দেখালে, তা আর সাধারণ আটক হিসেবে বিবেচিত হবে না। ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার পর থেকে এ ধরনের প্রতিটি ঘটনাকে ‘গুম’ হিসেবে গণ্য করা হবে বলে স্পষ্ট করেছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। আটকের পর ব্যক্তির আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা এবং পরিবারের কাছে তার অবস্থান দ্রুত জানানোর ওপরও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যালয়ে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন পাস হয়। নতুন এই আইনটিকে গুমের অভিযোগের বিচার ও প্রতিকারের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন চিফ প্রসিকিউটর।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন পাস হওয়াকে স্বাগত জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, এটি দেশের বিচারব্যবষ্টায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনগত মাইলফলক। এর আগে এই বিষয়ে একটি অধ্যাদেশ জারি করা হলেও তার কার্যকর কোনো প্রয়োগ অতীতে দেখা যায়নি। নতুন এই আইন গুমের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের শোকার্ত পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার ও প্রতিকার পাওয়ার পথকে আরও সুগম ও সুস্পষ্ট করবে বলে দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন তিনি।
চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, অতীতে সংঘটিত গুমের সকল অভিযোগ নতুন পাস হওয়া আইনের আলোকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হবে। এর ফলে দীর্ঘদিনের বঞ্চনার শিকার ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়ার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। পাশাপাশি, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের এই নতুন আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিদ্যমান আইনের কোনো সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হবে না বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
এদিকে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত ২৫১টি গুমের ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম। এসব ঘটনায় একই ধরনের মোডাস অপারেন্ডি বা পদ্ধতি এবং নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির সরাসরি সম্পৃক্ততার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। এসব বিষয়কে আমলে নিয়ে ঘটনাগুলোকে ‘ব্যাপক ও পদ্ধতিগত হামলা’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান আমিনুল ইসলাম। ইতিমধ্যে এসব ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সাক্ষ্য ও জবানবন্দি গ্রহণ শুরু হয়েছে।






















