সাংবাদিকের কার্ড বাতিলের কারণ খতিয়ে দেখবেন উপদেষ্টা জাহেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১১ পিএম


সাংবাদিকের কার্ড বাতিলের কারণ খতিয়ে দেখবেন উপদেষ্টা জাহেদ

ক সাংবাদিকের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিলের কারণ ব্যক্তিগতভাবে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে সরকারকে প্রশ্ন করার কারণে কার্ডটি বাতিল করা হয়েছে—এমনটা তিনি মনে করেন না বলে জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিলের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টি তিনি ব্যক্তিগতভাবে খতিয়ে দেখবেন।

সরকারকে প্রশ্ন করার কারণে অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রশ্ন করার কারণে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না।

তিনি বলেন, সাংবাদিকরা প্রতিদিন সরকারকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করছেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অপতথ্য ছড়ানোর ক্ষেত্রেও সরকারের সহনশীলতা রয়েছে।

জাহেদ উর রহমান জানান, ছয় মাসের তথ্য অনুযায়ী ৪৬৪টি বড় ধরনের অপতথ্যের মধ্যে ১৫৭টির লক্ষ্যবস্তু ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তবে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড কেন বাতিল করা হয়েছে, তা তিনি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।

সরকারি সেবা নিতে গিয়ে ‘স্যার’ না বললে কর্মকর্তাদের অসন্তুষ্ট হওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, কাউকে ‘স্যার’ বলায় সমস্যা নেই। তবে এটিকে সরকারি সেবা পাওয়ার শর্তে পরিণত করা অত্যন্ত ভয়ংকর।

তিনি বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ বলা বাধ্যতামূলক নয়। এটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। তবে শুধু আইন বা নির্দেশনা দিয়ে এ ধরনের মানসিকতা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

জাহেদ উর রহমান বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন এবং ধীরে ধীরে সরকারি কর্মকর্তাদের মানসিকতার পরিবর্তন হবে বলে তিনি আশা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক অভিযোগ করেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অধিকাংশের মালিক পুলিশ কর্মকর্তা। অথচ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরাই এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। একই সঙ্গে বাইকারদের কাগজপত্র যাচাইয়ে পুলিশ বেশি তৎপর হলেও ফিটনেসবিহীন বাসের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান দেখা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, পুলিশ কর্মকর্তারা ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের মালিক—এমন সাধারণীকরণ যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া করা ঠিক নয়। এ বিষয়ে তথ্য-প্রমাণসহ প্রতিবেদন করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে করা প্রতিবেদনকে সরকার উৎসাহিত করবে। তবে অপতথ্যের বিষয়ে সরকার কঠোর থাকবে।

বাইকারদের কাগজপত্র যাচাইয়ের বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, শুধু মোটরসাইকেল নয়, রাস্তায় চলাচলকারী সব ধরনের যানবাহনের কাগজপত্র যাচাই করা দরকার। বাইকারদের কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য যানবাহনের ক্ষেত্রেও ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে বলা হবে।

বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনায় বাইকারদের মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বাইকারদের সতর্কভাবে মোটরসাইকেল চালানোর আহ্বান জানান।

নিজের চিকিৎসক হিসেবে অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মাথায় গুরুতর আঘাতসহ বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখার পাশাপাশি সতর্কভাবে বাইক চালানোর পরামর্শ দেন তিনি।

ফরেক্স কারেন্সি ট্রেডিং নিয়ে নীতিমালা করার বিষয়ে জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, এ মুহূর্তে দ্রুত কোনো নীতিমালা করার পরিকল্পনা নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং তিনিও এ বিষয়ে কথা বলেছেন।

বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক ব্রোকার ফরেক্স ট্রেডিং করলেও এ খাত থেকে সরকার রাজস্ব পাচ্ছে না—এক সাংবাদিকের এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি বুঝতে পারছেন। বাস্তবতা বিবেচনায় কোনো না কোনোভাবে ফরেক্স ট্রেডিংকে নীতিমালার আওতায় আনার প্রয়োজন রয়েছে।

তবে ফরেক্স কারেন্সি ট্রেডিং ও ক্রিপ্টোকারেন্সিকে এক করে না দেখার আহ্বান জানান তিনি। জাহেদ উর রহমান বলেন, ফরেন কারেন্সি ট্রেডিং ও ক্রিপ্টোকারেন্সি আলাদা বিষয় এবং এ দুটিকে একইভাবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, ১০ হাজার কর্মী বিনামূল্যে যাওয়ার যে তথ্য তিনি আগে দিয়েছিলেন, সেটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এবং সঠিক।

তিনি বলেন, তার কাছে থাকা ব্রিফিংয়ের কাগজে মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া তথ্যই থাকে এবং তিনি সেগুলো পড়ে শোনান।

উপদেষ্টা বলেন, ১০ হাজার কর্মীর সংখ্যাটি ঠিক আছে। তবে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দুই লাখ ১০ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় যাওয়ার যে সংখ্যা বলা হয়েছিল, তা নিয়ে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়েছে।

Ads