অপরাধ দমনে ক্রাইম রিপোর্টারদের দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অয়ন আহমেদ

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম


অপরাধ দমনে ক্রাইম রিপোর্টারদের দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

পরাধের ধরন দিন দিন পরিবর্তিত হয়ে প্রযুক্তিনির্ভর ও ডিজিটাল রূপ নিচ্ছে। এমন বাস্তবতায় অপরাধের কারণ অনুসন্ধান, জনসচেতনতা তৈরি এবং নিরাপদ সমাজ গঠনে ক্রাইম রিপোর্টারদের আরও দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব)-এর ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধ দমন ও নিরাপদ সমাজ গঠনে অনুসন্ধানী সাংবাদিক তথা ক্রাইম রিপোর্টারদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধ, অপরাধী, অপরাধবিজ্ঞান, পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়—এগুলো পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে তথ্য প্রদান এবং পরামর্শের ক্ষেত্রে ক্র্যাবের মতো ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, ৩১৮ জন পেশাদার সদস্য নিয়ে ৪৩ বছরের যাত্রায় ক্র্যাব অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা একটি জ্ঞানভিত্তিক ও গুরুত্বপূর্ণ শাখা, যেখানে গভীর পড়াশোনা, তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের প্রয়োজন হয়।

অপরাধের মূল কারণ উদঘাটনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অপরাধ কেবল একটি বাহ্যিক উপসর্গ। এর মূল কারণ অনুসন্ধান করে সমস্যার গোড়ায় আঘাত করতে হবে। সমাজে সংঘটিত বিভিন্ন গুরুতর অপরাধ বিশ্লেষণ করলে অনেক ক্ষেত্রে মাদক ও জুয়ার মতো বিষয়কে অপরাধের চালিকাশক্তি হিসেবে দেখা যায়।

তিনি বলেন, অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি অপরাধ কেন সংঘটিত হচ্ছে, তা সমাজকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে। অপরাধের উৎসস্থলে কার্যকর সমাধান করা গেলে সমাজে অপরাধের হার কমানো সম্ভব।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ক্রাইম রিপোর্টাররা পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় নানা ঝুঁকি নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বা আহত সাংবাদিকদের সিএসআর ফান্ড কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

পাশাপাশি পেশাগত শ্রেষ্ঠত্ব ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার স্বীকৃতি হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের সনদ দেওয়ার বিষয়টি আইনগত দিক পর্যালোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

গণমাধ্যমকে সমাজের দর্পণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা সঠিকভাবে পালন করলে সমাজ ও রাষ্ট্রে অপরাধ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। রাষ্ট্র ও সমাজের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাংবাদিকদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

অ্যাসিড অপরাধ দমনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় অ্যাসিড নিক্ষেপ রোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। কঠোর আইন, গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং সামাজিক সচেতনতার সম্মিলিত প্রয়াসে দেশে অ্যাসিড-সংক্রান্ত অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

একইভাবে মাদক ও অনলাইন জুয়াসহ অন্যান্য অপরাধ দমনেও সাংবাদিক, রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

অনলাইন জুয়া ও মাদক নির্মূলে আইনি সংস্কারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুরোনো আইন আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন। ১৮৬৭ সালের পুরোনো গ্যাম্বলিং আইন হালনাগাদ করে অনলাইন জুয়া, বেটিং, ম্যাচ ফিক্সিংসহ সংশ্লিষ্ট অপরাধ মোকাবিলায় ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। আইনটি ২০২৬ সালের ১ জুলাই প্রণীত হয়েছে।

এ ছাড়া মাদক-সংক্রান্ত প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলা ও বিচারিক কার্যক্রম জোরদারে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। আইনটিতে মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল, সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদক শনাক্তকরণে ডগ স্কোয়াডসহ বিভিন্ন বিধানের কথা রয়েছে।

ক্র্যাবের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ক্র্যাবের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ।

বক্তারা ক্র্যাবের দীর্ঘ ৪৩ বছরের অবদানের প্রশংসা করেন এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ধারা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পরে কেক কেটে ক্র্যাবের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

Ads