বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ক্যাচ মিস মহড়া
০৮ অক্টোবর ২০১৬, ০৪:০১ এএম
ছবি-সংগৃহীত
বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যাচ মিসের মহড়া দিলেন। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মোশাররফ রুবেল এই দু’জনের এমন ফিল্ডিং বাংলাদেশের হারের জন্য অনেকটা দায়ী ক্রিকেট প্রেমীরা। তারাই নতুন জীবন ‘উপহার’ দিয়েছেন বেন স্টোকস ও বেন ডাকেটকে। ক্যাচ মিসের কারণে ইংল্যান্ড রীতিমতো স্বাগতিকদের বোলারদের শাসন করেছেন।
আজ শুক্রবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এই ম্যাচের চিত্রটা অবশ্য পাল্টে যেতে পারত, যদি না তিনটি ক্যাচ মিস না হতো। এক বেন স্টোকসের দুবার ক্যাচ মিস করেছেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা।
টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামা ইংল্যান্ড ৬৩ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল। ওখান থেকেই দলকে টেনে তোলেন বেন স্টোকস ও বেন ডাকেট। চতুর্থ উইকেটে এই জুটি দলীয় সংগ্রহে জমা করেছেন সর্বোচ্চ ১৫৩ রান।
ক্যাচ মিস এর কারনে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পেলেন বেন স্টোকস। ১০০ বলে তিনি খেলেছেন ১০১ রানের দর্শণীয় ইনিংস। অথচ স্টোকসকে কিন্তু ফেরানো যেত ব্যক্তিগত ৬৯ ও ৭১ রানে।
তাসকিনের করা ৩১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে প্রথমবার নতুন জীবন উপহার পান বেন স্টোকস। ব্যক্তিগত ৬৯ রানে ব্যাট করা ২৫ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন মিড-অনে। অথচ স্টোকসের তুলে দেওয়া সহজ সে ক্যাচটি হাতছাড়া করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এর পরের ওভারেই দ্বিতীয় জীবন পান স্টোকস। মাশরাফির করা ৩২তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ডিপ কভারে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন ব্যক্তিগত ৭১ রানে ব্যাট করা স্টোকস। কিন্তু সে ক্যাচটি ধরতে ব্যর্থ হন মোশাররফ রুবেল।
দুবার নতুন জীবন উপহার পাওয়া বেন স্টোকস সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছেন। ছুঁয়েছেন ‘তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার’। নতুন জীবন পেয়েছেন বেন ডাকেটও। মাশরাফির করা ৩৬তম ওভারের চতুর্থ বলে ব্যক্তিগত ৫৩ রানে ব্যাট করা ডাকেট বল উড়িয়ে মেরেছিলেন ডিপ স্কয়ারে। কিন্তু তিনজন খেলোয়াড়ের মাঝখানে পড়ে বলটি। দ্বিতীয় জীবন পান ব্যক্তিগত ৫৯ রানে। মোসাদ্দেকের করা ৩৭তম ওভারের চতুর্থ বলে সুইপ শট খেলতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন ডাকেট। কিন্তু ডাইভ দিলেও সে ক্যাচটি মুঠোবন্দি করতে পারেননি মোশাররফ রুবেল।
স্টোকস-ডাকেটের ১৫৩ রানের জুটি ভাঙেন শফিউল ইসলাম। ফুল টস বলে সুইপ শট খেলতে গিয়েছিলেন ২১ বছর বয়সী বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ডাকেট। কিন্তু বল সরাসরি লেগ স্ট্যাম্পে লাগে। শফিউলের দ্বিতীয় শিকার হওয়া ডাকেট সাজঘরে ফেরার আগে ৭৮ বলে ৬০ রান করেছেন।
স্টোকস ও ডাকেটের জুটি আরও আগে ভাঙতে পারলে ইংল্যান্ডের দলীয় সংগ্রহটা হয়তো ৩০০ রানের ঘর পেরোতো না। কিন্তু বাজে ফিল্ডিংয়ের কারণে ইংলিশদের দলীয় সংগ্রহে লাগাম পরানো সম্ভব হয়নি।
ফিল্ডিংয়ের পাশাপাশি বোলিং-পর্বটাও ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ৯ ওভারে ৫৯ রান দিয়ে ২ উইকেট পেয়েছেন শফিউল ইসলাম। ১০ ওভারে ৫২ রানে ২ উইকেট শিকার করেছেন মাশরাফি। সাকিব পেয়েছেন ১০ ওভারে ৫৯ রানে ২ উইকেট। এ ছাড়া ৯ ওভারে ৫০ রান দিলেও কোনো উইকেট পাননি মোসাদ্দেক। ৬ ওভারে ৩৮ রান দিলেও উইকেটশূন্য ছিলেন তাসকিনও। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের অর্জন বেশ প্রশ্ন বিদ্ধ।

























