শিশু অধিকার রক্ষায় শিশু সাংবাদিকতার প্রতি গুরুত্বারোপ

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৮:৪৭ পিএম


শিশু অধিকার রক্ষায় শিশু সাংবাদিকতার প্রতি গুরুত্বারোপ

শিশু অধিকার সুরক্ষার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা শিশু সাংবাদিকতায় উৎসাহ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের আহবান জানিয়েছেন। শিশুদেরকে জাতীয় সম্পদ হিসাবে আখ্যায়িত করে তারা বলেন যে, তাদের প্রকৃত সাংবাদিকতা তৈরী শিশুর সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

বক্তারা বলেন, শিশু সাংবাদিকতার মাধ্যমে শিশুদের বিষয়গুলো যেভাবে উঠে আসবে যা প্রবীন সাংবাদিকদের দ্বারা সম্ভব হবেনা। শিশুদের বিষয়গুলো শিশুদের দ্বারা উপস্থাপিত হলে শিশু বিকাশে তাহ অত্যন্ত সহায়ক হবে বলে মনে করেন তারা।

শিশু সাংবাদিকতার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্র তৈরী করা এবং এ বিষয়ে জনমত সৃষ্টি করা দরকার বলে মত প্রদান করেন বক্তারা।

শিশু ও মানব পাচার রোধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন ও সার্বিক শিশু বিষয়ক ইস্যুসমূহ ও পরিস্থিতি তুলে পাচার প্রতিরোধ ও জেন্ডার সহিংসতা রোধে সংবেদনশীল প্রতিবেদনের জন্য অনলাইন মিডিয়ার সাথে মতবিনিময় সভাটি সোমবার ১০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বাংলাদেশ ফটো জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন এর হল রুমে অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্বায়নের এ সময়ে সমাজ পরিবর্তনে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকার কথা উল্লেখ করে তারা বলেন, গণমাধ্যম সংশিষ্টদের উচিত হবে তাদের সকল কার্যক্রমে নারী ও শিশুদের বিষয়টি অগ্রাধিকার প্রাধান্য দেওয়া। উপস্থিতি আরো মনে করেন রাষ্ট্রের কোনো বিশেষ দিবসে নারী ও শিশুদের বিষযে শুধু সংবাদ প্রচার না করে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে তাদের সার্বিক বিষয়ে গবেষণা অথবা সুনির্দিষ্ট ভিত্তি অনুসন্ধানের মাধ্যমে সংবাদ ও অন্যান্য নিবন্ধ প্রচারের গুরুত্ব দেওয়া।

বক্তারা আরো জানান বর্তমানে গণমাধ্যমে শিশুদের উপস্থিতি সন্তোষজনক নয় তাই তারা দ্রুততম সময়ে গণমাধমে শিশুদের সরাসরি অংশগ্রহণ বাড়ানোর উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। বিভিন্ন পর্যায়ে নারী ও শিশুরা বিভিন্ন ধরণের সহিংসতা যেমন পাচারের শিকার হচ্ছে। গণমাধ্যম এটা ইতিবাচকভাবে তুলে না ধরলে এই ধরণের ঘটনা ঘটতেই থাকবে বলে তারা আশংকা প্রকাশ করেন।
অধিকাংশ অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোতে শিশুদের জন্য আলাদা ডেস্ক রাখা হয়নি যা শিশুদের জন্য নির্ধারণ থাকবে। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানান বক্তারা।

শিশুদের সুরক্ষার জন্য আলাদা ফান্ড, শিশু আদালত ও শিশুদের অংশগ্রহণের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তারা বলেন, এগুলো বাস্তবায়নের জন্য গণমাধ্যমের ভুমিকা পালন করা উচিত।

নারী ও শিশু বান্ধব সমাজ গঠনে সংবেদনশীল সংবাদের গুরুত্ব তুলে ধরে তারা নারী ও শিশুদের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ করার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহবান জানান।  এই বিষয়ে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মতামত ইতিবাচকভাবে তুলে ধরার আহবান জানানো হয়।
পাচারের শিকার নারী ও শিশুদের সংবাদ, তাদের প্রত্যাবাসন ও  পুনর্বাসন  বিষয়ে সংবাদ পরিবেশনের সময় গণমাধ্যমের ইতিবাচক মনোভাব থাকা উচিত বলে তারা মনে করেন। পাচারের শিকার ব্যক্তিরা কোথায় প্রয়োজনীয় আইনি ও অন্যান্য সেবা পাবে সে বিষয়ে গণমাধ্যমের তথ্য তুলে ধরা উচিত বলে তারা মনে করেন।

জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ, জাতীয় শিশু আইন ও মানব পাচার দমন ও প্রতিরোধ আইন ২০১২ সম্বন্ধে ব্যাপক গণসচেতনতা থাকা উচিত বলে বক্তারা মনে করেন। কারণ এতে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা রোধে ও তাদের নিরাপদ জীবন যাপনে সহায়ক হবে।

সংশ্লিষ্ট আইনগুলো সকলের জন্য বোধগম্য করে সহজভাবে উপস্থাপনের আহবান জানিয়ে তারা বলেন যে, এই আইনগুলো কতখানি বাস্তবায়িত হয়েছে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে দেশবাসীকে তা জানানো উচিত।  এতে এক ধরণের সচেতনতা তৈরী হবে বলে অভিমত পোষন করেন।
নারী ও শিশুর বিষয়গুলো গণমাধ্যমে এমনভাবে তুলে ধরা উচিত যাতে দেশের নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায় এবং তারা যাতে এই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিতে পারে।

প্রিভেনশন অফ চাইল্ড ট্রাফিকিং থ্রু স্ট্রেনদেনিং কম্যুনিটি এন্ড নেটওয়ার্কিং  (পিসিটিএসসিএন) কসোর্টিয়াম এর অন্যতম সদস্য কমিউনিটি পার্টিসিপেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিডি) এ সভার আয়োজন করে।

প্রবীণ সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা হাবীবুল্লাহ রানা’র সভাপতিত্বে  অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় বক্তব্য রাখেন সিপিডি’র ফোকাল পার্সন আরিফুল ইসলাম, সিপিডি’র পিসিটিএসসিএন প্রকল্প সমন্বয়কারী মো: শরীফুল্লাহ রিয়াজ ও বিশিষ্ট সাংবাদিক কামরুদ্দিন হীরা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা।

 

 

 

Ads