খাগড়াছড়িতে জ্বালানি তেলের চাপ, ভোগান্তিতে পর্যটক
২৪ মার্চ ২০২৬, ০৭:২৮ এএম
খাগড়াছড়িতে ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে পর্যটকের ঢল নামলেও জ্বালানি তেল সরবরাহে চাপের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন ভ্রমণপিপাসুরা। বিশেষ করে সাজেকগামী বাইকার ও পর্যটকদের একটি অংশ তেল না পেয়ে গন্তব্যে যেতে না পেরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
গত রোববার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই খাগড়াছড়িতে পর্যটকের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। পৌরসভার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করেও অনেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারেননি। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন সাজেকগামী পর্যটকরা।
পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঈদের ছুটি কাটাতে বিপুল সংখ্যক মানুষ বাইক ও অন্যান্য যানবাহনে করে খাগড়াছড়িতে আসেন। তবে আকস্মিক চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হয়।
বাইকার সুজন বলেন, তেল সংকটের কারণে তাদের অনেকেই সাজেক যেতে পারেননি। ঈদের সময় পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলেও জ্বালানি না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
সাজেকগামী একটি পিকআপের চালক কৃপায়ন জানান, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। ভাড়া বাড়িয়েও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে দীঘিনালা উপজেলায় তেল সংকটজনিত ভোগান্তি নিরসনে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ উদ্যোগে অভিযান চালানো হয়। এ সময় কিছু যানবাহনে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সহায়তা করা হয়।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ মজুদ ও ভোক্তা হয়রানি প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পৌর এলাকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফিলিং স্টেশন ও বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, জেলায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ নয়, তবে ঈদকে কেন্দ্র করে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। গ্রাহকদের চাহিদা পূরণে ফিলিং স্টেশনগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন কাজ করছে।
সবমিলিয়ে, পর্যটন মৌসুমের শীর্ষ সময়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় চাপের প্রভাব পড়েছে পর্যটন খাতে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আগাম পরিকল্পনা ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হলে এ ধরনের ভোগান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।




































