নিউমার্কেটে প্রকাশ্য দিবালোকে শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন নিহত

নয়ন তারা

২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২১ এএম


নিউমার্কেটে প্রকাশ্য দিবালোকে শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন নিহত

 

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় মঙ্গলবার রাতে প্রকাশ্য দিবালোকে দুর্বৃত্তদের গুলিতে খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন (৫৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে নিহত ব্যক্তি ২০০১ সালে সরকারের ঘোষিত ২৩ জন শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকার ২ নম্বর আসামি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টার দিকে নিউমার্কেটের পশ্চিম পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ হলের সামনের বটতলা এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে । প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, “টিটন দ্রুত হেঁটে যাচ্ছিলেন। পেছন দিক থেকে মাস্ক পরিহিত এক যুবক প্রথমে তাকে লক্ষ্য করে দুটি গুলি ছোড়ে। পরে আবার দৌড়ে তার কাছে গিয়ে আরও দুটি গুলি করে। এতে তিনি পড়ে যান। এরপর তার সামনে গিয়ে মাথায় ঠেকিয়ে গুলি করে। লোকজন চিৎকার দিলে ওই দুর্বৃত্ত আরেকটি ফাঁকা গুলি করে দৌড়ে গিয়ে একটি মোটরসাইকেলের পেছনে বসে পালিয়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজনের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি।”

প্রাথমিকভাবে নিহতের পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) পরীক্ষার মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করে। টিটন হাজারীবাগের জিগাতলা এলাকার সুলতানগঞ্জের বাসিন্দা কে এম ফকরুদ্দিনের ছেলে। তিনি আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের শ্যালক ছিলেন ।

পুলিশ জানিয়েছে, টিটন দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় কারাগারে ছিলেন । ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি ১৩ আগস্ট জামিনে মুক্তি পান। তবে জামিনে থাকা সত্ত্বেও তিনি আদালতে হাজিরা না দিয়ে পলাতক জীবন যাপন করছিলেন। রয়েরবাজার ও মোহাম্মদপুর এলাকায় তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির অসংখ্য অভিযোগ ছিল।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান, আন্ডারওয়ার্ল্ডের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে । ইতোমধ্যে নিউমার্কেট থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার কাজ চলছে । টিটনের মরদেহ বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে।

এই ঘটনায় পুরো নিউমার্কেট এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনী ঘাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

 

Ads