প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ জরুরী
০৫ মার্চ ২০১৭, ০৩:৫৮ পিএম
পুরো জাতি এখন প্রশ্ন ফাঁসের রোগে আক্রান্ত। এই প্রশ্ন ফাঁস কোনভাবেই রোধ করতে পারছেনা সরকার। শিক্ষামন্ত্রী বলে আসছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সবার এমন বক্তব্য শুনতে এখন আর ভাল লাগছে না জনগনের। সরকার বিব্রত, নিরাপরাধ ছাত্র ছাত্রী, অভিভাবকসহ দেশের সকল মানুষ এখন অতিষ্ঠ।
এইতো সে দিনের কথা; এবারও এসএসসি পরীক্ষায় বাংলা এবং গণিতের প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং তা গণমাধ্যমে ব্যপকভাবে প্রকাশ হলো। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক এর মাধ্যমে এই প্রশ্নপত্র দ্রুত ফাঁস হয় বলে জানা গেছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবরে প্রকাশ, ফাঁস হওয়া ঢাকা বোর্ডের বাংলা এবং গণিতের প্রশ্নপত্র মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিল রয়েছে বলে একাধিক সূত্র স্বীকার করেছে।
প্রশ্নপত্র মুদ্রণ, বিতরণ, গোপণীয়তা ও নিরাপত্তা বিষয়ে জাতীয় মনিটরিং কমিটির কঠোর পদক্ষেপের পরও কোন ভাবেই প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ সম্ভব হচ্ছেনা। প্রশ্নপত্র ফাঁস এখন এককভাবে শুধু ঢাকা বোর্ডের হচ্ছে না ঢাকার সীমানা সারিয়ে এখন রাজশাহী, কুমিল্লাসহ অনেক বোর্ডেরও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে এবং তা মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলে আছে বলে সংবাদ মাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে।
লক্ষ্য করা গেছে এই প্রশ্নপত্র ফাঁস অনেক বছর ধরেই কমবেশী হয়ে আসছে। কিন্তু ইদানিং এই প্রশ্নপত্র ফাঁস বহুগুণ বেড়ে মহামারি আকার ধারণ করেছে। চাকরী প্রার্থীদের পরীক্ষা থেকে শুরু করে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি,ডিগ্রী, বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষাসহ সকল পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এখন রীতিমত নিয়ম হয়ে দাড়িয়েছে।
এই ব্যাধির লাগাম আটকাতে না পারলে জাতি এক সময় মেধা শুন্য হয়ে পড়বে, তাতে করে দেশের ভবিষ্যৎ কালো মেঘে ঢেকে যাবে। এই অন্ধকার গ্রাস করার আগে প্রশ্নফাঁসে অভিযুক্ত অসৎ শিক্ষক কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং যাদের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে তাদের আইনের আওতায় এনে এমন শাস্তি দিতে হবে তাদের দেখে ভবিষ্যতে যেন কেউ আর এই কাজে আসার সাহজ না করে। পত্রিকা ও টিভিতে দেখেছি আশুগঞ্জে কেন্দ্রসচিবকে প্রশ্নপত্র সহ হাতেনাতে ধরা পরতে। তার কাছে প্রশ্নপত্র পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই কেন্দ্রসচিবকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যাদের কাছে এধরণের কর্মকান্ড প্রতিরোধ করার দায়িত্ব থাকে তাদের যদি এই অবস্থা হয় সরকারের বা আর করার কি থাকবে।
সরকার জনগনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আর জনগনকে নিয়েই তো সরকার। আমি যদি মনে করি সরকার মানে শুধু দেশ চালায় যারা তারাই সরকার। তাহলে ধারণাটা সম্পূর্ণ ভুল। যেহেতু জনগনকে নিয়েই সরকার সেহেতু অসৎ কাজের জন্য সরকার এককভাবে দায়ী হতে পারেনা। আমরাও দায়ী। তাই আমাদের দ্রুত শংশোধন হতে হবে দেশকে বাঁচাতে হবে।
বিশেষ করে শিক্ষক অথবা পরীক্ষক প্রশ্নপত্র তৈরী করে সংশ্লিষ্ট সে সকল ব্যক্তি নিজেদের সংশোধন না করলে সরকারের কোন পদক্ষেপই কাজে আসবেনা। সুতরাং আপনার আমার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে অগ্রনী ভুমিকায় আসতে হবে। আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং দেশের আগামী দিনের কথা চিন্তা করে সকলের মানসিকতা পরিবর্তন করা অত্যন্ত জরুরী। সময় পরিবর্তনের সাথে আমাদের মানব কল্যাণের কথা মাথায় আনতে হবে। বাঁচার মত বাঁচতে হলে সততার সাথে জীবন ধারণ করার কথা ভাবতে হবে। নিজেকে সমাজে উপকারে আছে এমন কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে। প্রশ্নপত্র ফাঁস অচিরে বন্ধ হোক এই প্রত্যাশা জনগনের।
আমরা শুরু করতে পারি একজন পূর্ণাঙ্গ ভাল মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার স্বার্থকতা নিয়ে। সেটি হতে পারে এই প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ। পুরো জাতি আপনার পাশে থাকবে। শুরু হোক আপনার এই পথ চলা আগামীর উজ্জ্বল বাংলাদেশের পথে।






























