শ্রমিক সঙ্কটে মালয়েশিয়ায় শিল্প কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত
২১ এপ্রিল ২০১৬, ০৩:৪৯ পিএম
আন্তজাতিক ডেস্ক :: মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক নেয়া বন্ধ থাকায় চরম শ্রমিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ফলে দেশটির শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকরা পড়েছে বিপদে। কারণ যথা সময় তারা চাহিদা মোতাবেক বায়ারদের কাছে পণ্য সরবরাহ করতে পারছেন না। এমনই তথ্য জানা গেছে দেশটির জনপ্রিয় পত্রিকা দ্য স্টার-এ প্রকাশিত খবরে।
পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ি দু’মাসেরও বেশি সময় যাবত বিদেশি শ্রমিক নেয়া বন্ধ থাকায় মালয়েশিয়ার বেশিরভাগ শিল্প কারখানায় দেখা দিয়েছে শ্রমিক সঙ্কট। শ্রমিকের অভাবে কারখানা মালিকরা যথা সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে পারছে না। এতে দেশটির মন্দা অর্থনীতিকে আরো ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
সম্প্রতি ফেডারেশন অব মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারস (এফএমএম) নামে একটি প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়ার ম্যানুফ্যাকচারিং কারখানাগুলোর ওপর জরিপ চালিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালিত জরিপে বলা হয়, মালয়েশিয়ায় প্রায় ৮৪ শতাংশ শিল্প কারাখানায় শ্রমিকের ঘাটতি রয়েছে। আর এ নিয়ে কারখানার মালিকদের মধ্যেও রয়েছে তীব্র ক্ষোভ। কারণ তারা নির্দিষ্ট সময়ে বায়ারদের কাছে পণ্য সরবরাহ করতে পারছে না।
এদিকে চায়না ও মালয়েশিয়ান ব্যবসায়ীদের সংগঠন চায়নিজ চেম্বারস অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ অব মালয়েশিয়া (এসিসিসিআইএম) এর সাধারণ সম্পাদক দাতু লো কিয়ান চিয়ান বলেন, ‘শ্রমিকের অভাবে বিশেষ করে ফার্নিচার কারখানাসহ অন্যান্য কারাখানাগুলোর উৎপাদন কমে এসেছে। কোম্পানিগুলো নতুন করে অর্ডার নিতে ভয় পাচ্ছে।’
এদিকে শ্রমিকের অভাবে মালয়েশিয়ার প্রায় প্রতিটি রাজ্যের শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকদের মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভ কাজ করছে। এ অবস্থায় পেনাং এর মুক্ত ব্যবসায়িক অঞ্চলের সংগঠন ফ্রিপেনাকা মালয়েশিয়াতে তাদের বিনিয়োগ কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। শ্রমিক বন্ধ থাকার সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে তারা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা ভাবছেন বলেও জানান সংগঠনটির নেতারা।
উল্লেখ্য, ফ্রিপেনাকো কোম্পানির অধীনে ৭০টি বৃহৎ কোম্পানি রয়েছে যার মধ্যে আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোর অংশীদারিত্ব আছে।
এদিকে ব্যবসায়ীদের সংগঠন ফেডারেশন অব মালয়েশিয়ান ম্যানুফেকর্চাস মনে করে, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে আন্তর্জাতিক বাজার হারাবে মালয়েশিয়া। যা দেশটির চলমান মন্দা অর্থনীতিকে আরো বেশি নাজুক অবস্থার মধ্যে ফেলে দেবে।
উল্লেখ্য যে, গত ১৯ ফেব্র“য়ারি মালয়েশিয়া সরকার বিদেশে থেকে সব ধরনের কর্মী নেওয়া বন্ধের ঘোষণা দেয়। এর আগের দিন ১৮ ফেব্র“য়ারি বাংলাদেশ থেকে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারিভাবে বহু কর্মী নিতে ‘জিটুজি প্লাস’ চুক্তি সই করে মালয়েশিয়া।



















