হরমুজ প্রণালি
মার্কিন ভূখণ্ড দাবি করে ট্রাম্পের বিতর্কিত মানচিত্র প্রকাশ: তীব্র প্রতিক্রিয়া ইরানের
১৮ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪০ পিএম
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম সংবেদনশীল ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে ‘মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করে একটি বিতর্কিত মানচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কৌশলগত এই জলপথটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার যে আহ্বান তিনি জানিয়ে আসছেন, তা আরও জোরালো করার উদ্দেশ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি বিশ্লেষকরা।
গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) যুক্তরাষ্টের ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশিত এক বার্তায় জানা যায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের ভেরিফায়েড ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে এই বিতর্কিত মানচিত্রটি শেয়ার করেন। প্রকাশিত সেই মানচিত্রে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বহনের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু এই প্রণালিটিকে সরাসরি একটি ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় ২০ শতাংশই প্রবাহিত হয় এই সংকীর্ণ জলপথের মধ্য দিয়ে। ভৌগোলিকভাবে এটি মূলত ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার অন্তর্ভুক্ত। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডভুক্ত করার এই অভিনব ও নজিরবিহীন ধারণার কথা জনসমক্ষে নিয়ে আসেন ট্রাম্প। সে সময় তিনি দাবি করেছিলেন, কঠোর অর্থনৈতিক ও সামরিক অবরোধ বজায় রাখার মাধ্যমে কৌশলগত এই প্রণালিটি কার্যত এখন মার্কিন প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বিতর্কিত মানচিত্র প্রকাশ ও দাবির বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যকে পুরোপুরি ‘অলীক কল্পনা’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। ইরানি কূটনৈতিকদের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এবং নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভূরাজনৈতিক পরাজয়ের বাস্তবতা থেকে বিশ্ববাসীর নজর অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতেই মার্কিন প্রশাসন প্রতিনিয়ত এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ইতিহাসজুড়ে এই প্রণালি ইরানের সার্বভৌম ভূখণ্ডের অংশ ছিল, বর্তমানেও রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ইরানের অধিনেই থাকবে। একই সঙ্গে তেহরানের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে স্পষ্ট বার্তায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই সংবেদনশীল জলপথের নিরাপত্তা রক্ষা এবং এটি বন্ধ বা উন্মুক্ত রাখার পূর্ণ সার্বভৌম অধিকার কেবল ইরানের হাতেই ন্যস্ত।




























