ইরানকে একঘরে করার ছক

ট্রাম্পের অর্থনৈতিক যুদ্ধে বড় চ্যালেঞ্জ এখন চীন ও রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২১ আগস্ট ২০২৬, ০১:১৫ পিএম


ট্রাম্পের অর্থনৈতিক যুদ্ধে বড় চ্যালেঞ্জ এখন চীন ও রাশিয়া

 

রানের অর্থনীতিকে সম্পূর্ণ স্তব্ধ করে দিতে আবারও আগ্রাসী কৌশলে মাঠে নেমেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানকে অর্থনৈতিক ‘লাইফলাইন’ দেওয়া যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে কঠোর আর্থিক শাস্তির হুমকি দিয়ে তিনি এক ব্যাপক 'ইকোনমিক ডি-ডে' অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন। ইরানের সঙ্গে মার্কিন সংঘাত শুরুর পর এটি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসা অন্যতম বড় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় চীন ও রাশিয়ার মতো পরাশক্তিগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এই একতরফা চাপের প্রভাব অত্যন্ত সীমিত হতে পারে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বাড়তে থাকা উত্তেজনার আবহেই এই আন্তর্জাতিক টানাপোড়েনের চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ থেকে এ পরিস্থিতি নিশ্চিত করা গেছে।

ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে যারা সাহায্য করবে—তা তেল পাচার, অর্থ স্থানান্তর, জাহাজ নিবন্ধন কিংবা ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই হোক না কেন—তাদের ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। মার্কিন চাপের মুখে ইতোমধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে ইরানের সবচেয়ে বড় দুই বাণিজ্যিক সঙ্গী চীন ও রাশিয়ার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি পুরোপুরি ভিন্ন। কেপলার-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরান থেকে রপ্তানি হওয়া মোট তেলের প্রায় ৮০ শতাংশই যায় চীনে। চীনের তেল শোধনাগারগুলো মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করায় এবং রাশিয়া ইতোমধ্যেই পশ্চিমা ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার অধীনে থাকায় ট্রাম্পের এই গৌণ নিষেধাজ্ঞা (Secondary Sanctions) তাদের ওপর প্রয়োগ করা অত্যন্ত জটিল।

রাশিয়া ও ইরান কেবল বাণিজ্যই নয়, বরং ২০ বছরের অংশীদারত্ব চুক্তির মাধ্যমে সামরিক ও প্রযুক্তিগত স্তরেও নিজেদের সম্পর্ক জোরদার করেছে। মস্কো ও তেহরানের মধ্যে ক্যাস্পিয়ান সাগর দিয়ে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও ড্রোনের যন্ত্রাংশ স্থানান্তরের বিকল্প পথ গড়ে উঠেছে, যা মার্কিন ব্যবস্থার সম্পূর্ণ বাইরে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্নতা কাটাতে ইরান ব্রিকস (BRICS) জোট ও এর নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংককে (NDB) কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে, যেন সদস্য দেশগুলোর নিজস্ব মুদ্রায় দ্বিপক্ষীয় লেনদেন চালিয়ে যাওয়া যায়।

মার্কিন পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি একে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্যর্থ নীতি’ ও ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাস’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থন ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে যে অর্থনৈতিক অবরোধ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে, তা বেইজিং ও মস্কোর স্বার্থের দেয়ালে বাধাগ্রস্ত হতে বাধ্য।

Ads