চীনের হুশিয়ারি, বঙ্গোপসাগরে তিন দেশের যৌথমহড়া
১৮ অক্টোবর ২০১৫, ০৩:৫১ এএম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: পৃথিবীতে একছত্র শক্তি প্রয়োগে এগিয়ে থাকতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন শক্তি সংযোজন করল। তিন পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং ভারত তাদের নৌবাহিনীর রণতরী, বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন শনিবার হতাৎ গর্জে উঠলো বঙ্গোপসাগরে।
অর্থনীতিতে ১ নম্বরে থাকা উদীয়মান পরাশক্তি চীনকে সামাল দেয়ার জন্য ভারতের পূর্ব উপকূলে এই তিনটি দেশ যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করে।
তাৎক্ষনিক সামরিক মহড়া পরাশক্তি চীনের বিরুদ্ধে তিনটি দেশের চলমান কৌশলগত বন্ধনের ইঙ্গিত সারা পৃথিবীকে জানিয়ে দিল।
ছয়দিন ব্যাপী মালাবারেে এই সমুদ্র মহড়ায় দেশগুলোর সামরিক বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় এবং নৌবাহিনী সমর লড়াইয়ে শত্রুর সাবমেরিন প্রয়োগের যুদ্ধ কিভাবে প্রতিহত করা যায় সেটার পূর্ণ কলাকৌশল রপ্ত করা হয়। ত্রয়ী দেশের এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সূত্রটি জানিয়েছে, এই মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্র ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট নামের একটি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ, শক্তিশালী একটি মিসাইল ক্রুজার এবং একটি পরমাণু চালিত সাবমেরিন সংযুক্ত রয়েছে।
রুজভেল্ট যুদ্ধজাহাজের কমান্ডার ক্যাপ্টেন ক্রেগ ক্লাপারটন গনমাধ্যম কর্মীদের জানান বর্তমানে ‘ভারত এবং জাপান উভয়ই যুক্তরাষ্ট্রের চমৎকার বন্ধু। ভবিষ্যত নিয়ে আমাদের মাঝে অনেক অভিন্ন লক্ষ্য ও ইদ্দেশ্য রয়েছে। ভারত ও জাপানের সাথে আমাদের অত্যন্ত শক্তিশালী অর্থনৈতিক, সামরিক এবং রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ক্রেগ। ছয়দিন ব্যাপী মালাবারে এই সমুদ্র মহড়া বন্ধুত্বের প্রমাণ বলে জানান তিনি।
চীনের একটি রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র এ নৌ মহড়ার ব্যাপারে ভারতকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে অন্য একটি সূত্র তা দাবি করেছে ।
গ্লোবাল টাইমসে ইন্দো-চীনের সম্পর্ক ইতিবাচক ধারায় রয়েছে এবং এ সুসম্পর্ক উভয় দেশের জন্যই মঙ্গলজনক বলে উল্লেখ করেছেন। চীন বিরোধী শিবিরে ভারতকে টেনে নেয়ার যে কোনো মতলবের বিরুদ্ধে তার সদাসতর্ক থাকা উচিত বলা হয় গ্লোবাল টাইমসে।
এদিকে প্রায় একই সময় চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী একটি যৌথ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে চীনের গণমুক্তি ফৌজ এবং ভারতীয় সেনাবাহিনী।
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ মহড়াকে কখনোই সুনজরে দেখে না চীন। তবে দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে চীনের সাথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এবার চীন বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। তাই ভারতের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের এই সখ্যতা কোন ভাবে মানতে পারছেনা চীন।
উল্লেখ্য যে, দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের কৃত্রিম দ্বীপ নির্মাণের পর যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সেনাবাহিনীর কর্তা ব্যক্তিরা একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিচ্ছে।
সূত্র: এপি
























