লন্ডনের সমাবেশে রাজনৈতিক দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য দিবেন বিএনপি চেয়ারপারসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৩ অক্টোবর ২০১৫, ০৪:৪০ এএম


লন্ডনের সমাবেশে রাজনৈতিক দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য দিবেন বিএনপি চেয়ারপারসন

 লন্ডন প্রতিনিধি :: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আগামী সপ্তাহে লন্ডনে  প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। সমাবেশ কবে হবে তা অবশ্য তারিখ নির্ধারণ হয়নি, তবে বিশ্বস্ত একটি মাধ্যমে জানা গেছে  আগামী ২৭ অক্টোবর অথবা ৩০ অক্টোবর যেকোন একটি তারিখে এ সমাবেশ হতে পারে। ইতিমধ্যে উক্ত সমাবেশ নিয়ে লন্ডন ছাড়াও বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এবং বিভিন্ন মহলে বেশ কৌতুহলের জন্ম দিয়েছে বলে জানাগেছে। বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে বেগম জিয়া লন্ডনের এই সমাবেশে জোড়ালো বক্তব্য রাখবেন বলে মনে করা হচ্ছে। কৌশল গত বক্তব্যে সকল রাজনৈতিকদের প্রতি দিক-নির্দেশনামুলক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যও থাকতে পারে বিজ্ঞ মহল  ধারণা করছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মূল উদ্দেশ্য লন্ডন সফরে চোখের চিকিৎসা আর বড় ছেলে তারেক রহমানসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে দেখা করা এবং  ছেলের বৌ-নাতিদের সাথে ঘনিষ্ঠ সময় কাটানো। তিনি লন্ডনে আছেন প্রায় এক মাসের বেশি সময় ধরে। প্রথম থেকেই তাঁর এই বিদেশ সফর নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা কৌতুহল দেখা গেছে এবং অনেকেই একে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সফর হিসেবে মন্তব্য করেছিলেন। অনেকেই মনে করেছিলেন সেখানে বিদেশী কূটনৈকতিকদের মধ্যস্থতায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে একটা রাজনৈতিক সমঝোতা হতে পারে, এধরনের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু এখনো সে ধরণের লক্ষণ এখন পর্যন্ত আচঁ করা যায়নি। বিপরীতে দেখা গেছে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি এবং বিদেশি নাগরিক হত্যার জন্য বিএনপি চেয়ারপারস ও বিএনপির সংগঠনের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা চলেছে। এত কিছুর মধ্যেও মধ্য লন্ডনের কোনো সভাগৃহে বেগম জিয়া এ সমাবেশে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন।

যুক্তরাজ্য শাখা বিএনপির নেতারা এই সমাবেশকে সফল করার জন্য সর্বশক্তি দিয়ে প্রস্তুতি চালাচ্ছেন। নেতারা অনাকাঙ্খিত ও  কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় তার জন্যও সতর্ক দৃষ্টি রেখে সব প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন দীর্ঘ সময় অর্থাৎ ২৬ এপ্রিল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনের পর আর কোন আনুষ্ঠানিক বক্তব্য রাখেননি । ২৬ এপ্রিলের পর বাংলাদেশের রাজনৈকতিক রঙ্গমঞ্চে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তৈরি হয়েছে। যার জন্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা লন্ডনের সমাবেশটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।

আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা সভা ভন্ডুল করতে পারে এমন তথ্যের কারণে সমাবেশ কোথায় করা হবে তা এখনো নির্দিষ্ট করা হয়নি। উল্লেখ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লন্ডন সফরে যেভাবে বিএনপি নেতা-কর্মীরা তার হোটেলের সামনে বা এয়ারপোর্টে লাগাতার বিক্ষোভ দেখিয়ে তাকে নাজেহাল করেছিল। ঠিক সে রকম পরিস্থিতি করতে পারে আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীরা এই ধারণার কারণে গোপনীয়তার মাধ্যমে ধীরে চলো নীতি অনুসরণ করছে যুক্তরাজ্য বিএনপি। আবার পূর্ব লন্ডনে আওয়ামী লীগের পক্ষে দ্রুত সমর্থকদের জড়ো করা তুলনামূলক সহজ, যার কারণেই জনসভাটি সেন্ট্রাল লন্ডনে কোন এক জায়গায় সমাবেশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য বিএনপি। আর তাতে সায় দিয়েছেন তারেক রহমানও।

আরেকটি সুত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন কারণে বিএনপি চেয়ারপারসন জামায়াতে ইসলামী দলের নেতা-কর্মীদের সাথে একটু দূরত্ব রেখে চলছেন।

হঠাৎ কেন সমাবেশে বক্তব্য রাখতে যাচ্ছেন এমন এক প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাজ্য বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা জানান, নানা কারণে নেত্রীর লন্ডন সফর দীর্ঘায়িত হচ্ছে কারণ ঢাকায় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতামন্ত্রীরা ইতোমধ্যেই যে ভাবে বলতে শুরু করেছেন খালেদা জিয়া আর লন্ডন থেকে ফিরবেন না কিংবা বিদেশের মাটিতে বসেই তিনি বাংলাদেশে অস্থিরতা তৈরির ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন, তার জবাব দেয়ার জন্যই লন্ডনে জনসভাকে বেছে নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তিনি সকল প্রশ্নের জবাব দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক ভাবে এই সমাবেশটি বেছে নিয়েছেন। পাশাপাশি দল পুনর্গঠনের কার্যক্রম এবং দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন এ সকল বিষয়ে জোড়ালো বক্তব্য রাখবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন বেগম জিয়া কবে দেশে ফিরবেন সেটি হয়ত এই সমাবেশের বক্তব্যে শোনা যাবে।

Ads