প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদকে হেনস্তা: ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন অস্বস্তি

নয়ন তারা

১৬ জুন ২০২৬, ০৮:১২ এএম


প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদকে হেনস্তা: ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন অস্বস্তি


পুশইন ইস্যু নিয়ে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে চলমান টানাপোড়েনের মাঝেই ভারতের দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হেনস্থার শিকার হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। অথচ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ভারতে প্রবেশের জন্য কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক সব ধরনের রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতাই সম্পন্ন ছিল। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিশ্লেষকরা একে ‘শিষ্টাচারবহির্ভূত ও অসৌজন্যমূলক’ আচরণ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

বিমানবন্দরে আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা, আত্মসম্মান রক্ষায় দেশে প্রত্যাবর্তন
ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ)-এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কমিটির ২৮তম বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতা হিসেবে যোগ দিতে দিল্লি গিয়েছিলেন ডা. জাহেদ উর রহমান। ১২ জুন নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কূটনৈতিক পত্রের (নোট ভারবাল) মাধ্যমে তার সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল। এমনকি রোববার বিকেলে তাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন খোদ বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ।

কিন্তু বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তার সাধারণ পাসপোর্টে থাকা বৈধ ‘সার্ক স্টিকার’ থাকা সত্ত্বেও কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই তাকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা আটকে রাখে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'সিএনএন-নিউজ ১৮' জানায়, একটি নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট নজরদারি তালিকায় (ওয়াচলিস্ট) নাম থাকার কারণে রুটিন তল্লাশির অংশ হিসেবে তাকে থামানো হয়েছিল।

বিষয়টি আত্মসম্মানের পরিপন্থী বিবেচনা করে ডা. জাহেদ উর রহমান নিজের পাসপোর্ট ফেরত চান এবং দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে একাধিকবার ভারতে প্রবেশের অনুরোধ করলেও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। দিল্লি থেকে সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় তিনি কলম্বো হয়ে সোমবার বেলা পৌনে ১২টায় ঢাকায় পৌঁছান।

ঢাকায় ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব ও প্রতিবাদ
এই নজিরবিহীন ঘটনার পর সোমবারই ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ারকুমার বঢ়েকে তলব করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালক ইশরাত জাহান তার হাতে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদপত্র তুলে দেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ঘটনাটিকে 'অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক' বলে মন্তব্য করেছেন এবং এর বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, এই ঘটনা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয় এবং সংশ্লিষ্ট উইং বিস্তারিত তথ্য খতিয়ে দেখছে।

কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন: ক্ষুব্ধ বিশ্লেষক মহল
সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ও ভিআইপি প্রটোকল নিশ্চিত করার পরও এমন আচরণ কেন করা হলো, তা নিয়ে দিল্লির কাছে সঠিক ব্যাখ্যার দাবি তুলেছেন বিশ্লেষকরা।

সাবেক রাষ্ট্রদূত এম সফিউল্লাহ বলেন, "সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরও ইমিগ্রেশনে এভাবে বসিয়ে রেখে প্রশ্ন করা অসৌজন্যমূলক। এতে তাকে অসম্মান করা হয়েছে। এ ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয় ভারত আসলে বাংলাদেশের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক চায়।"

সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির ভারতের এই আচরণের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, বাংলাদেশ এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং ভারতের উচিত নিজেদের ভুল স্বীকার করা। অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক গবেষক আলতাফ পারভেজ ঘটনাটিকে 'দুঃখজনক ও উসকানিমূলক' হিসেবে অভিহিত করে একে কেবল ভুল বোঝাবুঝি বলে পাশ না কাটিয়ে ভারতের কাছ থেকে জবাবদিহি নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন।

 

Ads