দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন ২৮ জুন, লক্ষ্যমাত্রা ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি শিশু

নয়ন তারা

২৫ জুন ২০২৬, ০৮:৫১ এএম


দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন ২৮ জুন, লক্ষ্যমাত্রা ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি শিশু

 

প্রায় ১৪ মাস পর দেশব্যাপী একযোগে শুরু হতে যাচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। আগামী ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে এই বিশেষ কর্মসূচি। ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে দেশের ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সি ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

তবে দেশের দুর্গম অঞ্চলের শিশুদের সুরক্ষায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। ১২টি জেলার ৫৮টি উপজেলার ২৯০টি ইউনিয়নের ৭১৪টি ওয়ার্ডে ক্যাম্পেইন পরবর্তী আরও চার দিন ‘চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং’ কার্যক্রম চালানো হবে। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, এবারের ক্যাম্পেইনে মোট ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

৬ থেকে ১১ মাস বয়সি শিশু: এই বয়সের ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন শিশুকে নীল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সি শিশু: এই বয়সের ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন শিশুকে লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

ক্যাম্পেইনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক জানান, আগামী ২৮ জুনের এই কর্মসূচি সফল করতে দেশব্যাপী ১ লাখ ২০ হাজার নিয়মিত ইপিআই (EPI) কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, রেলস্টেশন ও বাস স্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আরও ৫০০টি ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী আরও বলেন, “ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ইতিমধ্যে আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে এবং বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সি শিশুদের অভিভাবকরা যেন নিকটস্থ কেন্দ্রে গিয়ে তাদের সন্তানদের ক্যাপসুল খাওয়ান, সেই আহ্বান জানাচ্ছি।”

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৮ জুন সকালে রাজধানীর শাহবাগের আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার উপস্থিত থাকবেন।

এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় তৃণমূল পর্যায়ে এই ক্যাম্পেইন সফল করা হবে।

পুরো কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা নিজস্ব টিমের মাধ্যমে সার্বিক মনিটরিং করবেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে তদারকি করবেন বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

Ads