রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগস্টেই: ফখরুলকে ঘিরে তুঙ্গস্পর্শী রাজনৈতিক জল্পনা

নয়ন তারা

২৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৬ এএম


রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগস্টেই: ফখরুলকে ঘিরে তুঙ্গস্পর্শী রাজনৈতিক জল্পনা

 

বাংলাদেশের ২১তম বা পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী আগস্ট মাসেই। সংসদ অধিবেশনের দীর্ঘ অপেক্ষায় না থেকে আগস্টের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যেই এই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চিন্তা করছে সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়।

বিগত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করায় বর্তমানে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংবিধান অনুযায়ী শূন্য পদটি পূরণে ৯০ দিনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও, দ্রুততম সময়ে নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই বেগবান করা হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি মতে জানাযায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও বর্তমান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর বিজয়ী হওয়া অনেকটাই নিশ্চিত। শুরুতে একাধিক নাম নিয়ে গুঞ্জন থাকলেও, বর্তমানে মির্জা ফখরুলের নামই নীতিনির্ধারণী ফোরাম থেকে শুরু করে সর্বস্তরে প্রাধান্য পাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলসহ দেশের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিও প্রকাশ্যে তাঁকে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে অত্যন্ত উপযুক্ত বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন।

এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন, কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং সর্বমহলে গ্রহণীয় ব্যক্তিত্বের কারণে মির্জা ফখরুলকে প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। অবশ্য তিনি রাষ্ট্রপতি পদে সমাসীন হলে দল ও সরকার উভয় কাঠামিতেই বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়বে। সে ক্ষেত্রে তাঁকে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হবে এবং বিএনপির মহাসচিব পদেও আসবে নতুন মুখ। এছাড়া সংবিধানের বিধান অনুযায়ী তাঁর ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করতে হবে, যার ফলে সেখানে আয়োজন করতে হবে নতুন উপনির্বাচন।

তবে রাষ্ট্রপতি পদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আইন ও সংবিধানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর জোর দিচ্ছে বিএনপি। সম্প্রতি বগুড়া সফরে এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় নাকি বাইরের কাউকে প্রার্থী করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি। বিএনপির দায়িত্বশীল নীতিনির্ধারণী সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, বিষয়টি নিয়ে স্থায়ী কমিটিতে আনুষ্ঠানিক আলোচনার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতামতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গঠনে মূল ভূমিকা রাখবে।

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনও (ইসি) রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানে তাদের যাবতীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান স্পষ্ট করেছেন যে, আইন অনুযায়ী ১৫ জুলাই শেষ হওয়া সংসদ অধিবেশনের পর পৃথক প্রক্রিয়ায় বা স্বাভাবিক ৬০ দিনের নির্ধারিত পরবর্তী অধিবেশনেই এই নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব, এর জন্য বিশেষ অধিবেশনের বাধ্যবাধকতা নেই। ইতোমধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন সংসদ ভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা সম্পন্ন করেছেন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সংসদ সচিবালয় থেকে সংসদ সদস্যদের ভোটার তালিকা হস্তান্তরিত হলেই ভোটের পূর্ণাঙ্গ তফসিল ঘোষণা করা হবে। একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলে সংসদ ভবনে গোপন ব্যালটে ভোট গ্রহণ হবে, অন্যথায় একক প্রার্থী হলে তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।

 

Ads