ওমানে যাচ্ছে বাংলাদেশি ১০ হাজার কর্মী, স্বাক্ষরিত চুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩১ এএম


ওমানে যাচ্ছে বাংলাদেশি ১০ হাজার কর্মী, স্বাক্ষরিত চুক্তি

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ওমানের শ্রমবাজারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে। কৃষি ও মৎস্য খাতে বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মী নিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তিও স্বাক্ষর হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। এর আগে তিনি ওমানের রাজপরিবারের সদস্য আল সাইয়্যিদ মোহাম্মদ সালিম আলী আল সাইদের সঙ্গে বৈঠক করেন।


শামা ওবায়েদ বলেন, ওমান বাংলাদেশ থেকে ৫ হাজার কৃষিকর্মী ও ৫ হাজার মৎস্যকর্মীসহ মোট ১০ হাজার কর্মী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

তিনি জানান, নিয়োগপ্রক্রিয়ার বিস্তারিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে আগামী মাসে ওমান সরকারের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করতে পারে। সফরকালে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে কর্মী নিয়োগের বিভিন্ন বিষয় চূড়ান্ত করা হবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের মেয়াদে সৃষ্ট বিভিন্ন সমস্যার কারণে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ওমানের ভিসা এখনো সীমিত রয়েছে। বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ওমানের শ্রমবাজারে নিয়মিত প্রবেশাধিকার পুনরুদ্ধারে সরকার মাসকাটের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশি কর্মীরা যাতে নিয়মিতভাবে ওমানে যেতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে সরকার কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি ওমানের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে অবদান রাখতে সক্ষম আরও দক্ষ কর্মী পাঠানোর বিষয়েও দেশটির সরকারের কাছে অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়েছে।

শামা ওবায়েদ জানান, ওমান এ উদ্যোগে আগ্রহ দেখিয়েছে এবং দুই দেশ এ বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ (ইউএই) কয়েকটি দেশে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সমস্যাগুলো সমাধানে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সরকারের কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে ইউএইতে ২০০ জনের বেশি বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছিল। দেশটির আইনে এ ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ। পরে বাংলাদেশ সরকারের নিবিড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় তাদের দেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা করা হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নথিপত্র, ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়া এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে এখনো নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।

Ads