পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিতে চায় সরকার: পর্যটনমন্ত্রী

মোঃ আশরাফুল আলম

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫১ পিএম


পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিতে চায় সরকার: পর্যটনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের পর্যটন খাতের সম্ভাবনাকে পরিকল্পিত, টেকসই ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক শিল্পে রূপ দিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় তিন দিনব্যাপী ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলেরই নিজস্ব পর্যটন সম্ভাবনা রয়েছে। নদী, পাহাড়, সমুদ্র, বন, ম্যানগ্রোভ, চা-বাগান, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও ধর্মীয় ঐতিহ্য—সব মিলিয়ে দেশের পর্যটন সম্পদের বৈচিত্র্য রয়েছে। এসব সম্ভাবনাকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন, কক্সবাজারের দীর্ঘ প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত, কুয়াকাটা, সিলেটের চা-বাগান, নদী ও জলাভূমিসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পর্যটকদের আকর্ষণ করার মতো অনেক সম্পদ রয়েছে।

পর্যটনের সম্ভাবনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠিত গন্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব গল্প ও আকর্ষণ রয়েছে। এসব সম্ভাবনাকে পরিকল্পিত, টেকসই ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক পর্যটন শিল্পে রূপ দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।

বিভিন্ন ধরনের পর্যটন আকর্ষণকে সমন্বয় করে একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে পর্যটন খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী।

তার ভাষ্য, পর্যটনের উন্নয়ন শুধু প্রশাসনিক অগ্রাধিকার নয়; অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক উন্নয়নের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও এ খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কক্সবাজারকে আঞ্চলিক পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারকে আঞ্চলিক পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

নতুন কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অন্যতম উদ্দেশ্য বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করা বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি সুন্দরবনকে পিপিপি মডেলে উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

পর্যটন খাতের উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি খাতের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পর্যটনকে নিয়ে যেতে সরকার, বেসরকারি খাত ও স্থানীয় কমিউনিটিকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পর্যটন খাতে বর্তমান অবদান আরও বাড়াতে নতুন, উদ্ভাবনী ও ব্যয়-সাশ্রয়ী ধারণা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, উন্নয়ন সহযোগী এবং বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ ট্যুরিজম ফেয়ার চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ২০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩০০টি বুথে মেলায় অংশ নিচ্ছে।

Ads