পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হেলজেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম


পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হেলজেন

ছবি: সংগৃহীত

আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কারের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বেলজিয়ামে জন্মগ্রহণকারী পদার্থবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হেলজেন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে।

হেলজেনের পুরস্কারের মূল কারণ হিসেবে আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে তাঁর ‘decisive contributions’ এবং জ্যোতির্পদার্থীয় উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

দক্ষিণ মেরুর বরফ ব্যবহার করে নিউট্রিনো শনাক্ত করার ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে হেলজেনের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাঁর পরিকল্পনা ও বৈজ্ঞানিক নেতৃত্বের ভিত্তিতেই অ্যান্টার্কটিকার বরফের নিচে আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি গড়ে ওঠে।

আইসকিউব হলো প্রায় এক ঘনকিলোমিটার আয়তনের বরফের মধ্যে স্থাপিত বিশাল নিউট্রিনো ডিটেক্টর। এতে হাজার হাজার আলোকসংবেদী সেন্সর রয়েছে, যা বরফের মধ্যে নিউট্রিনোর সংঘর্ষ থেকে তৈরি আলোর ক্ষীণ সংকেত শনাক্ত করে। পর্যবেক্ষণকেন্দ্রটি অ্যান্টার্কটিক বরফের প্রায় ১,৪৫০ থেকে ২,৪৫০ মিটার গভীরে বিস্তৃত।

নিউট্রিনো বৈদ্যুতিক আধানহীন এবং প্রায় ভরহীন মৌলিক কণা। এগুলো মহাবিশ্বের অত্যন্ত শক্তিশালী বিভিন্ন উৎস থেকে উৎপন্ন হয়ে প্রায় বাধাহীনভাবে মহাকাশ পাড়ি দিতে পারে। ফলে নিউট্রিনো শনাক্ত করে মহাবিশ্বের দূরবর্তী, আইসকিউব নিউট্রিনো, IceCube Neutrino Observatory, নিউট্রিনো আবিষ্কার, উচ্চশক্তির নিউট্রিনো, মহাজাগতিক নিউট্রিনো, অ্যান্টার্কটিকা নিউট্রিনো ও শক্তিশালী জ্যোতির্পদার্থীয় ঘটনাগুলো সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া সম্ভব।

হেলজেনের ধারণা বাস্তবায়নের ফল হিসেবে আইসকিউব গবেষকরা মহাজাগতিক উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত করতে সক্ষম হন। ২০১৩ সালে আইসকিউব প্রথমবারের মতো উচ্চশক্তির মহাজাগতিক নিউট্রিনোর উপস্থিতির প্রমাণ দেয়।

পরবর্তী সময়ে আইসকিউবের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা নিউট্রিনোর সম্ভাব্য মহাজাগতিক উৎস শনাক্তের কাজ এগিয়ে নেন। ২০২৬ সালেও গবেষকেরা বিভিন্ন জ্যোতির্পদার্থীয় ঘটনা থেকে নিউট্রিনো নিঃসরণের সম্ভাব্য উৎস অনুসন্ধান করে যাচ্ছেন।

আইসকিউবের মাধ্যমে শনাক্ত নিউট্রিনোগুলো মহাবিশ্বের অত্যন্ত শক্তিশালী প্রক্রিয়া সম্পর্কে নতুন তথ্য দিচ্ছে। বিশেষ করে, এসব কণা কীভাবে এত বিপুল শক্তি অর্জন করে এবং মহাজাগতিক রশ্মির উৎস কোথায়—এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গবেষকদের সহায়তা করছে এই পর্যবেক্ষণকেন্দ্র। 

Ads