জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব: এলজিআরডি মন্ত্রী
০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
জনগণের সেবা করা এবং তাদের প্রত্যাশা পূরণ করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
তিনি বলেন, জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন, সেই প্রত্যাশা পূরণে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের গ্র্যান্ড বলরুমে ‘জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।
এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করা দায়িত্বের অংশ। স্থানীয় সরকারের কোনো প্রতিনিধি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে শেষ পর্যন্ত এর দায় সরকারের ওপরই বর্তায়।
নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের ধরন তুলে ধরে তিনি বলেন, একজন সরকারি চাকরিজীবী চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ বছর দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পান। বিপরীতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মেয়াদ পাঁচ বছর। এই সময় শেষে তাদের আবার জনগণের কাছে গিয়ে নিজেদের কাজের হিসাব দিতে হয় এবং পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার জন্য জনসমর্থন চাইতে হয়। তাই জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা ও দায়িত্ববোধের গুরুত্ব বেশি।
গ্রামাঞ্চলের মানুষের ভোগান্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরে আবদুল মঈন খান বলেন, অনেক সাধারণ ও স্বল্পশিক্ষিত মানুষ জন্মনিবন্ধন সনদ নিতে ইউনিয়ন পরিষদে দিনের পর দিন ঘুরেও সেবা পান না। এ ধরনের পরিস্থিতির পরিবর্তন জরুরি।
তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে মানুষের সুবিধা-অসুবিধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম যাতে নিয়মতান্ত্রিক ও নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বের পার্থক্য থাকলেও মূল লক্ষ্য অভিন্ন হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তাঁর মতে, কাজের পদ্ধতি আলাদা হলেও উভয়ের উদ্দেশ্য জনগণের সেবা নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র জনগণের সেবার জন্য যে ক্ষমতা দিয়েছে, তা মানুষের প্রয়োজন পূরণ ও অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যবহার করতে হবে। জনগণের সেবা পাওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরিতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করা যাবে না।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থাকে জাতীয় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রকৃত জনসংখ্যার সঙ্গে নিবন্ধন তথ্যভান্ডারের পরিসংখ্যানে বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে। প্রায় ১৯ কোটি জনসংখ্যার দেশে নিবন্ধন ডাটাবেজে এর চেয়ে বেশি মানুষের তথ্য থাকা উদ্বেগের বিষয়। এই অসঙ্গতি দূর করে নিবন্ধন ব্যবস্থাকে নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য করতে হবে।
প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ব্যবস্থার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শুধু কম্পিউটার বা প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই নাগরিকসেবা নিশ্চিত হবে না। প্রযুক্তির পেছনে থাকা ব্যক্তিদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একজন নাগরিককে একটি সাধারণ জন্মসনদ নিতে যেন বারবার ইউনিয়ন পরিষদে যেতে না হয়, তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরেন।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) ফারাহ শাম্মী, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেলিগেশনের ঢাকার হেড অব ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ড. মিখাল ক্রেজা এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।





























