রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘে ৫ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নয়ন তারা

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৯ এএম


রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘে ৫ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

 

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অব্যাহত নির্যাতন ও বৈষম্যের মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার নিজভূমে টেকসই, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের প্রতি একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

নিউইয়র্ক সময় মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ১১ নম্বর কক্ষে রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান এই আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শীর্ষ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে সংকটের টেকসই সমাধানে পাঁচ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়:

  • মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নাগরিক ও মৌলিক অধিকার এবং নিরাপত্তা প্রদান।
  • সহিংসতা নিরসন: রাখাইন রাজ্যে অবিলম্বে সব ধরনের সশস্ত্র সহিংসতা ও নির্যাতন বন্ধ করা।
  • পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা: আশ্রয়শিবির ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে প্রয়োজনীয় ও ধারাবাহিক মানবিক সহায়তা জোরদার করা।
  • ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি: রোহিঙ্গাদের ওপর সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ন্যায়বিচার এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
  • আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা: মানবপাচার, মাদক ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় যৌথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

 

বাস্তুচ্যুত এই জনগোষ্ঠীর ইতিহাস তুলে ধরে বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৭৮ সাল ও ১৯৮০-এর দশক থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমারে সহিংসতার মুখে বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে। ২০১৭ সালে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর নতুন করে শুরু করা নৃশংসতার পর পরিস্থিতির নজিরবিহীন অবনতি ঘটে। দীর্ঘ নয় বছর ধরে মানবিক বাধ্যবাধকতা থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হলেও ক্যাম্পগুলো দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের জন্য কোনোভাবেই উপযোগী নয়। বর্তমানে এসব শিবিরে প্রতিবছর হাজার হাজার শিশু জন্মগ্রহণ করায় এক নতুন অনিশ্চিত প্রজন্মের জন্ম হচ্ছে।

বাংলাদেশ মানবিক স্বার্থে মানবিক সহায়তা, খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা এবং মিয়ানমারের পাঠ্যক্রম অনুযায়ী প্রায় ৬ হাজার শিক্ষাকেন্দ্রে রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষার সুযোগ দিয়ে আসছে। তবে দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির কারণে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত তীব্র চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। অনিশ্চয়তা ও হতাশার কারণে মানবপাচার, মাদক চোরাচালানসহ নানাবিধ আন্তঃদেশীয় অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা পুরো দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ।

আন্তর্জাতিক সহায়তার ক্রমহ্রাসমান প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানানো হয়, ২০২৫ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় (জেআরপি) ৯৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আবেদনের বিপরীতে ২০২৬ সালে তা কমিয়ে ৭১০ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে—যা দিয়ে কেবল ন্যূনতম জীবনরক্ষাকারী চাহিদা মেটানো সম্ভব। কেবল মানবিক সহায়তা দিয়ে এই রাজনৈতিক সংকটের দায় বাংলাদেশ এককভাবে বহন করতে পারে না। মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও 'আরাকান আর্মি' উভয়ের মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধ করে রাখাইনে অবিলম্বে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়।

Ads