কেউ রাখে না বেদে সম্প্রদায়ের খোঁজ
২৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৪:৫৩ পিএম
বেদে সম্প্রদায় বা সাপুড়ে জনগোষ্ঠী। ছবি- প্রতিদিনের চিত্র
সারা দেশ যখন শীতে কাঁপছে, শীতবস্ত্র বিতরণের কত খবর সংবাদ পত্রে প্রকাশ হচ্ছে, টেলিভিশনের বিভিন্ন চ্যানেলে শীতার্তদের নিয়ে খবর প্রকাশ করছে, কত কম্বল বিতরণ চলছে, কিন্তু ওদের খোঁজ খবর কেউ রাখে না। ওরা রহস্যময় মানুষ। ওরা যাযাবরের মতো ঘুরে বেড়ায় এখানে সেখানে। এক যায়গা থেকে অন্য যায়গায় দেখা যায় ওদের। অঞ্চল ভেদে তাদের একেক নাম, আর বেঁচে থাকার জন্য বিচিত্রসব পেশা। অদ্ভুত তাদের ভাষা।
বলছিলাম বেদে সম্প্রদায় বা সাপুড়ে জনগোষ্ঠীর কথা। ভ্রমণশীল বা ভবঘুরে নদীপথ নির্ভর বাংলাদেশে বেদে সাপুড়েদের বাহন ছিল নৌকা। নৌকায় সংসার, আবার নৌকায় ঘুরে বেড়ানো দেশ-দেশান্তর। কিন্তু কালের বিবর্তনে অনেক নদীতে নৌকা চলার মত পানি নেই। তাই চলে না নৌকা। কিন্তু ওদের যাযাবর জীবনযাত্রা থেমে নেই। এখনো তারা বিভিন্ন বাহন নিয়ে সড়ক পথে দেশ- দেশান্তর নদী পাড়ে বা পরিত্যাক্ত খোলা জায়গায় তাঁবু বেঁধে বাপ-দাদার পেশা সাপ খেলা কিংবা তাবিজ কবজ বিক্রি করে চলে তাদের জীবিকা। এখনো তারা যাযাবর বলেই ওদের জীবন বৈচিত্রময়।
এমনি একটি সাপুড়ে দলের দেখা মেলে সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুর উপজেলার নগরবাড়ী-বগুড়া মহাসড়কের পুর্ব পাশে গাড়াদহ ইউনিয়নের মশিপুর নামক পরিত্যাক্ত ইট ভাটায় তাঁবু বেধে শিশু বৃদ্ধসহ পরিবারের সবাইকে নিয়ে বসবাসরত বেদে বা সাপুড়ে সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠীর। প্রচন্ড শীতে যখন মানুষ ঘরের ভিতর লেপ- তোষকেও কাঁপছে, কাটছে না শীত। অথচ বেদেরা খোলা আকাশের নিচে তাঁবু বেঁধে হালকা শীত নিবারণের কাপড়ে দিনাতিপাত করছে। কথা হয় তাদের সরদার মোহাম্মদ মেছের আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, শীতে দরিদ্রদের মাঝে সরকারি বেসরকারি অনেকেই শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। কিন্তু আমাদের ভাগ্যে জোটে না । আমরা যেহেতু স্থানীয় না, আমরা তো সাপুড়ে যাযাবর, আমাদের নেই চেয়ারম্যান, নেই মেম্বর। তাই কেউ আমাদের খোঁজ খবর রাখে না, পাইনা আমরা শীত নিবারণের জন্য শীতবস্ত্র। আমরাও তো বাংলাদেশেরই মানুষ!
































