ইসলামে অশুভ লক্ষণের অস্তিত্ব নেই

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

০৫ জুলাই ২০১৭, ০৭:৩৫ পিএম


ইসলামে অশুভ লক্ষণের অস্তিত্ব নেই

পাখি উড়িয়ে ভাগ্য নির্ধারণ করার প্রথা আদিকাল থেকে প্রচলন হয়ে আসছে। এটি মূলত জাহেলি যুগের কুসংস্কার। তখনকার লোকেরা কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য বের হলে নিজেদের পোষা পাখিকে ছেড়ে দিত অথবা অপোষা বন্য পাখিকে ঢিল ছুড়ত। যদি পাখিটি ডান দিকে উড়ে যেত তখন নিজের কাজ সফলজনক বলে ধারণা করত এবং সেই কাজ করার জন্য সামনে অগ্রসর হতো। আর যদি পাখিটি বাঁ দিকে উড়ে যেত, তখন নিজের কাজকে অশুভ মনে করত এবং সেই কাজ সম্পাদন করা থেকে বিরত থাকত। কিন্তু ইসলাম এভাবে পাখি উড়িয়ে ভাগ্য নির্ধারণ করাকে সমর্থন করে না। এ প্রথাকে মহানবী (সা.) অপছন্দ করতেন এবং উম্মতকে এ কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। 

পাখি উড়িয়ে ভাগ্যের ভালো-মন্দ নির্ণয় করা শিরক
পাখি উড়িয়ে ভাগ্য নির্ণয় করা এবং এ কাজকে বিশ্বাস করা হবে শিরক। কারণ তকদিরের ভালো-মন্দ সবদিক আল্লাহই জানেন। এর সমাধান একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই দিতে পারবেন। ভাগ্যের পরিবর্তনের ক্ষমতা কোনো পাখির নেই। সুতরাং নিজের তকদিরের শুভ-অশুভ লক্ষণের জন্য পাখি উড়ানো হবে শিরক। এ গোনাহ ক্ষমাযোগ্য নয়। কোনো ঈমানদার মুসলমান এ রকম জঘন্য অপরাধে লিপ্ত হতে পারে না। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ভাগ্যের ভালো-মন্দ নির্ণয়ের জন্য পাখি উড়ানো বা ঢিল ছোড়া বা কোনো কিছুতে অশুভ লক্ষণ মান্য করা শিরক।’ (আবু দাউদ : ৩৯০৯)। আরও বলেন, ‘অশুভ লক্ষণ গ্রহণ করা শিরকি কাজ। এ বাক্যটি তিনি তিনবার উচ্চারণ করেছেন। আর আমাদের মধ্যে কেউ নেই যার মনে অশুভ লক্ষণের ধারণার উদ্রেক না হয়। কিন্তু আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা করলে তিনি তা দূরীভূত করে দেন।’ (আবু দাউদ : ৩৯১২; তিরমিজি : ১৭১২)। 

প্যাঁচার মধ্যে কুলক্ষণের কিছুই নেই
প্রাক-ইসলামী যুগে প্যাঁচা সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের কুধারণা পোষণ করা হতো। আরবের লোকেরা এটিকে অশুভর প্রতীক মনে করত। অথচ প্যাঁচাও আল্লাহর সৃষ্টি। এর কোনো ক্ষমতা নেই বান্দার ক্ষতি করার। ইসলামে প্যাঁচাকে কুলক্ষণ পোষণ করা নিষিদ্ধ। এ মর্মে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘রোগে সংক্রামী হওয়া বলতে কিছুই নেই, কোনো কিছুতে অশুভ নেই। প্যাঁচার মধ্যে কুলক্ষণ নেই এবং সফর মাসেও কোনো অশুভ নেই। তবে কুষ্ঠরোগী হতে পলায়ন করো। যেমনÑ তুমি বাঘ থেকে পলায়ন করে থাক।’ (বোখারি : ৫৭৬৯)। আরও বলেন, ‘ছোঁয়াচে রোগ বলতে কিছুই নেই। প্যাঁচার মধ্যে কুলক্ষণের কিছুই নেই। তারকার দরুন বৃষ্টি হওয়া ভিত্তিহীন এবং সফর মাসে অশুভ নেই।’ (মুসলিম : ৫৯২৬)। 

সফর মাস অশুভ হওয়ার ধারণা ভিত্তিহীন
মুসলিম সমাজে সফর নিয়ে একটি কুধারণা কাজ করছে। অনেকে সফর মাসে কোনো কাজ করাকে অশুভ মনে করে। অমঙ্গল মনে করে। অথচ ইসলামে এ দাবির কোনো অস্তিত্ব নেই। আল্লাহ তায়ালা ১২ মাসকেই মানবজাতির কল্যাণের জন্য নির্ধারণ করেছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘নিশ্চয়ই আকাশম-লী ও পৃথিবীর সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহর বিধানে আল্লাহর কাছে মাস গণনায় মাস ১২টি। (সূরা তওবা : ৩৬)। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘রোগে ছোঁয়াচে লাগা, সফর মাস অশুভ হওয়া বা ভূত-প্রেতের ধারণার কোনো অস্তিত্ব নেই। (মেশকাত : ৪৩৭৮)। 

আরও বলেন, রোগে ছোঁয়াচে বলতে কিছু নেই। প্যাঁচার মধ্যে কুলক্ষণের কিছুই নেই এবং সফর মাসেও অশুভ নেই। তখন এক বেদুঈন বলে উঠল, ইয়া রাসুলুল্লাহ! তাহলে উটের এ দশা কেন হয়, উটের পাল ময়দানে হরিণের মতো বিচরণ করে, এ অবস্থায় তাদের সঙ্গে চর্ম রোগাক্রান্ত একটি উট এসে মিশল এবং তাদেরও চর্মরোগী বানিয়ে দিল। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, আচ্ছা তা হলে প্রথম উটটির চর্মরোগ কোথা থেকে এলো? (বোখারি : ৫৮২৯; আবু দাউদ : ৩৯১৩)।

Ads