ছাতকে নৌপথে আট পয়েন্টে চাঁদাবাজি

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

২১ অক্টোবর ২০১৯, ০২:৫৫ পিএম


ছাতকে নৌপথে আট পয়েন্টে চাঁদাবাজি

ছাতকে সুরমা নদীতে আবারও চাঁদাবাজরা বেপরোয়া। ছাতক-কোম্পানীগঞ্জ নৌপথ থেকে প্রতিদিনই ৬-৮টি স্থান থেকে ৪-৫ লাখ টাকার মতো চাঁদাবাজরা আদায় করছে পাথর-বালু ও চুনাপাথরবাহী বার্জ-কার্গো ও নৌকা থেকে। শনিবার বিকালে ছাতকে সুরমা নদীতে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের বরাবরে ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের হরিষপুর গ্রামের সাবেক সদস্য নুরচল হকের ছেলে আরিফুর রহমান মানিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার অফিযোগে উল্লেখ করেন, ছাতক কোম্পানীগঞ্জের সন্ত্রাসীরা নৌপথে কার্গো জাহাজ বলগেট নৌকা মালবাহী থেকে চাঁদা রশিদের মাধ্যমে দীর্ঘ ৪-৫ মাস ধরে প্রতিদিন মাঝিদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে। ছাতক কোম্পানীগঞ্জের নদীতে ৪-৫টি পয়েন্ট থেকে এসব চাঁদাবাজ চাঁদা উত্তোলন করে আসছে। ছাতক থানার কালারুকা বাজার ও ছাতক শহরে নৌযানচালিত ইঞ্জিন থেকে এলাকার অস্ত্রবাজ, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজরা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা আদায় করে আসছে। তাদের কথামতো চাঁদা না দিলে বেঁধে নির্যাতন ও হামলার শিকার হচ্ছেন মাঝিরা। এছাড়া কালারুকা ইউনিয়নে মুক্তি কাবিলপুর গ্রামের নিকটবর্তী সুরমা নদীর সঙ্গে সিলেটের সালুটিকর থেকে ছেড়ে আসা নৌযান থেকে আটক করে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে। তাদের ইচ্ছামতো না দিলে মারধর চালায়। ছাতকে সুরমা নদীতে এভাবে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে বাংলাদেশ ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআইডব্লিউটিএ), ছাতক পৌরসভা এবং শাহজালাল সমবায় সমিতিসহ বিভিন্ন নামে। অথচ বিআইডব্লিউটিএর নিজস্ব কোনো ঘাটই নেই। শাহজালাল সমিতিসহ চাঁদা আদায়কারী বিভিন্ন সংগঠনেরও কোনো বৈধতা নেই। এসব চাঁদাবাজির নেপথ্যে রয়েছেন পৌরসভার কয়েকজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর, যারা আওয়ামী লীগ-বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছে। এরই মধ্যে পাথর ব্যবসায়ী সমিতি, শাহপরাণ ইঞ্জিন নৌকা মালিক সমিতি ও একতা বালু উত্তোলন এবং সরবরাহকারী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতিসহ পাঁচটি সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দায়ের করে। চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় এমপি, পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে ব্যবসায়ীরা আলাদাভাবে বৈঠকও করে। ছাতক ও কোম্পানীগঞ্জের সুরমা, চেলা এবং পিয়াইন নদীপথে বালু, পাথর, চুনাপাথর ও কয়লা নিতে আসে বাল্কহেড, বার্জ, কার্গো ও ইঞ্জিনচালিত নৌকাসহ শতাধিক বিভিন্ন ধরনের নৌযান চলাচল করে। এসব নৌযান ভোলাগঞ্জ, শাহ আরেফিন টিলা, বিছনাকান্দি ও লোভাছড়া পাথর কোয়ারিসহ বিভিন্ন কোয়ারি থেকে পাথর সংগ্রহ করে। এছাড়া ভারত থেকে চুনাপাথর, বোল্ডার-সিঙ্গেল আমদানি করেও ছাতক নৌ-বন্দর এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ডাম্পিং করা হয়। এসব স্থানের ব্যবসায়ীদের নৌযানকে ছাতক ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মধ্যবর্তী নৌপথের ইছাকলস, চেলা নদীর মুখ, থানাঘাট, চাঁদনীঘাট, পেপারমিল ঘাট, নোয়ারাইঘাট ও বারকাপন এলাকায় চাঁদা দিতে।

Ads