নারী ও শিশু পাচার মোকাবেলায় বাংলাদেশ-ভারত দক্ষতা জরুরী

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:৩৫ পিএম


নারী ও শিশু পাচার মোকাবেলায় বাংলাদেশ-ভারত দক্ষতা জরুরী

বাংলাদেশ থেকে  প্রতি মাসে প্রায় ২০০-৪০০ নারী ও শিশু ভারতে পাচার হচ্ছে। এপর্যন্ত লক্ষাধিক নারী ও শিশু প্রতিবেশী ঐ দেশটিতে পাচারের শিকার হয়েছে। এদের অধিকাংশের ভাগ্যে নির্মম পরিণতি জুটেছে এবং তারা অমানবিক জীবন যাপনে বাধ্য হচ্ছে।

সম্প্রতি রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে আয়েজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ বলেন যে, বাংলাদেশ প্রধানত: মানব পাচারের উৎস দেশ হিসাবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আমাদের দেশ ট্রানজিট ও গন্তব্য ভমি হিসাবেও ব্যবহার হচ্ছে।

ইদানিং নারী ও শিশুর পাশাপশি আভ্যন্তরীণ এবং আন্ত:সীমান্ত উভয় ক্ষেত্রে  ’শ্রম শোষণের’ উদ্দেশ্যে পুরুষের পাচারও বেড়ে গেছে বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

মানবতা বিরোধী এই কার্যক্রম প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তারা বলেন যে,  সরকার ইতিমধ্যে ’মানব পাচার প্রতিরোধ দমন আইন ২০১২ ও বিধিমালা ২০১৭’ প্রণয়ন করেছে যেখানে মানব পাচার দমন সংস্থা, পাচার প্রতিরোধ তহবিল ও পাচার দমনে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাচার প্রতিরোধ ও দমনে কাজ করার অংগীকার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অবগত করা হয় যে, সরকার নিয়মিত মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে আসছে এবং বর্তমানে চতুর্থ দফায় ২০১৮-২০২২ সালের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে।

অধিকার কর্মীদের মতে, প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে আমাদের একাধিক সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি থাকা সত্ত্বেও পাচার প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি এবং ইতিমধ্যে যারা পাচারের শিকার হয়েছেন তাদের প্রত্যাবর্তনেও নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে।

পাচার হওয়া ব্যক্তিদের উদ্ধার ও প্রত্যাবাসন এর বিষয়টি বর্তমানে ভারতের সাথে স্বাক্ষরিত ’সাধারন পরিচালনা পদ্ধতি’ এর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। পাচার রোধ বিশেষ করে নারী ও শিশু পাচার বন্ধে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ ২০১৫ সালে ভারতের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে।

ইনসিডিন বাংলাদেশ এর ম্যানেজার (পলিসি এন্ড লিগ্যাল সাপোর্ট) রফিকুল ইসলাম খান বলেন, সমঝোতা স্মারক  এর অধীনে সাধারন পরিচালনা পদ্ধতি বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষনের লক্ষ্যে পাচারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের উদ্ধার, প্রত্যাবাসন ও সমাজে একত্রীকরণের জন্য বাংলাদেশ ও ভারত একটি জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন করে। 

কিন্তু বাংলাদেশ ও ভারত এর মধ্যে সাধারন পরিচালনা পদ্ধতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বেশকিছু সীমাবদ্ধতা ও বাধা রয়েছে বলে তিনি  মনে করেন।

আন্তর্জাতিক পরিসরে ভারতের সাথে পাচার মোকাবেলায় একাধিক সমঝোতা স্বারক ও চুক্তি সম্পাদন কারা হয়েছে। সমঝোতা স্মারক, নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধ বিশেষ করে উদ্ধার, প্রত্যাবর্তন ও প্রত্যাবাসনে স্বাক্ষরিত সাধারণ পরিচালনা পদ্ধতিসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে একযোগে কাজ করার সুযোগ সুবিধা সম্বলিত প্যাকেজ রয়েছে।

পিসিটিএসসিএন কনেসোর্টিয়ামের সূত্র মতে, বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের অনেক রাজ্যে উদ্ধার, প্রত্যাবর্তন ও প্রত্যাবাসনের কাজ তদারকির জন্য আরআরআরআই টাস্ক ফোর্স গঠন করে সরকারী বেসরকারী পরিসর বিস্তৃত করে চলেছে। কিন্তু উদ্ধার, প্রত্যাবর্তন ও প্রত্যাবাসনে যেসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক ভারতের সাথে স্বাক্ষর করা হয়েছে তার বাস্তবায়ন ও আরআরআরআই টাস্ক ফোর্স এর ভুমিকা সন্তোষজনক নয়।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে পিসিটিএসসিএন কনেসোর্টিয়ামের লীড এজেন্সী ইনসিডিন বাংলাদেশ ৩০শে আগষ্ট, ২০১৮ ঢাকায় দিনব্যাপী একটি সম্মেলনের আয়োজন করে যেখানে বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ভারতের পশ্চিমবংগ ও ত্রিপুরা থেকে পাচার প্রতিরোধে কর্মরত এনজিও সংগঠনের প্রতিনিধি ও বাংলাদেশের এনজিও সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পাচার দমন ও মোকাবেলায় উভয় দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময় ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

উক্ত আলোচনা সভায় যে সমস্ত বিষয়গুলো প্রাধান্য পায় সেগুলো হলো:  উভয় দেশের জাতীয় আরআরআরআই টাস্ক ফোর্সদ্বয়ের মধ্যে সমন্বয়ের দূর্বলতা দূরীকরণ:  সমন্বিত ডাটাবেজ সিস্টেম তৈরী করা; উদ্ধার, প্রত্যাবর্তন বা প্রত্যাবাসনের পরে পাচার থেকে উদ্ধারকৃত ব্যক্তিরা যে মানসিক ও সামজিক নিগ্রহের শিকার হয় তা মোকাবেলায় ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশই যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক সামর্থ্য বৃদ্ধি করবে। সাধারণ পরিচালনা পদ্ধতি (সপ) এর আওতায় প্রত্যাবর্তন কাজে দীর্ঘসূত্রীতা পরিহার: বাংলাদেশ,  ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও মহারাষ্ট্রে টাস্কফোর্সসমূহের মধ্যে সরাসরি তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা চালু করা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

সংবাদ সম্মেলনে আলোচনাকালে অধিকার কর্মীরা উক্ত বিষয়গুলোর প্রতি একমত পোষণ করেন এবং উভয় দেশের অভিন্ন সীমান্তের পাচার রোধ ও দমনে উভয় দেশের সরকারী ও বেসরকারী কার্যক্রমের সমন্বয় খুবই জরুরি বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

তারা পাচার মোকাবেলায় দ্বিপাক্ষিক কাঠামোতে আরো বেশী কাজ করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

পিসিটিএসসিএন কনেসোর্টিয়ামের অন্যতম সদস্য নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আক্তার ডলি সাধারণ পরিচালনা পদ্ধতি এর আওতায় প্রত্যাবর্তন কাজে দীর্ঘসূত্রীতা পরিহার করে এই কাজে আন্ত:সীমান্ত বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়ানোর উপর জোর দেন।

Ads