কুড়িগ্রামে চাঁদাবাজি ও ছিনতাই মামলায় কথিত দুই সাংবাদিক গ্রেফতার

এম এম আল মামুন

৩১ জানুয়ারি ২০২৪, ১০:৪৮ পিএম


কুড়িগ্রামে চাঁদাবাজি ও ছিনতাই মামলায় কথিত দুই সাংবাদিক গ্রেফতার

ছবি- সংগৃহীত।

 

কুড়িগ্রামে চাঁদাবাজি ও ছিনতাই মামলায় আলমগীর হোসেন ও শহিদুল ইসলাম (মসলা) নামে কথিত দুই সাংবাদিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 

বুধবার রাতে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মোগলবাসা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর (ফারাজিপাড়া) এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত শহিদুল ইসলাম (মসলা) এক সময় কুড়িগ্রাম পৌর বাজারে মসলার ব্যবসা করতেন আর আলমগীর হোসেন জেলা শহরের জর্জ কোর্ট মোড়ে ফটোকপির ব্যবসা করতেন।

 

পুলিশের অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, গত ২২জানুয়ারী সদর উপজেলার মোগলবাসা ইউনিয়নের রতনপল্লী এলাকায় ধরলা নদীর তীর রক্ষা বাঁধের নির্মান কাজ চলাকালীন সময় কথিত ওই দুই সাংবাদিক উপস্থিত হয়। সেখানে এস কে এমদাদুল হক আল মামুন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাব ঠিকাদার জাহিদুল ইসলামের নিকট এক লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেন এবং চলমান কাজ বন্ধ করে দেয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আটককৃত দুই সাংবাদিক সাব ঠিকাদার জাহিদুল ইসলামের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে মারধর করে তার কাছে থাকা লেবার হাজিরার ৮০হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।

 

এ ঘটনায় জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে (গত ৩০জানুয়ারী) আলমগীর হোসেন ও শহিদুল ইসলাম (মসলা) কে আসামী করে সদর থানায় ছিনতাই ও চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন।

 

কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশ বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে দুই সাংবাদিককে গ্রেফতার করে সকালে তাদের জেল হাজতে প্রেরন করে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মামলার ২নং আসামী শহিদুল ইসলাম (মসলা) কুড়িগ্রাম আদর্শ পৌরবাজারে খোলা দোকানে মসলা বিক্রি করতেন। শহিদুল ইসলামের লেখাপড়া না থাকলেও পরে হঠাৎ করেই তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক পরিচয় দিতে শুরু করেন এবং বিভিন্ন উপজেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ঝামেলাযুক্ত জায়গায় গিয়ে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদা আদায় করে আসছিল। অপরদিকে মামলার ১নং আসামী আলমগীর হোসেন আগে জর্জ কোটের বাইরে রাস্তার পাশে কম্পিউটারে প্রিন্ট ও ফটোকপির ব্যবসা করতো। পরে সেও সাংবাদিক পরিচয়ে শহিদুল ইসলাম (মসলা) এর সাথে একই কায়দায় বিভিন্ন এলাকার মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করে আসছিল।

 

এ ব্যাপারে মামলার বাদী জাহিদুল ইসলাম জানান, গত ২২জানুয়ারি দুপুর দেড়টার দিকে আলমগীর হোসেন ও শহিদুল ইসলাম (মসলা) মোগলবাসা ইউনিয়নের রতনপল্লী এলাকায় আসে এবং সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন অজুহাতে ধরলা নদীর তীর রক্ষা বাঁধের চলমান কাজ বন্ধ করে দেয়। সে সময় কাজ বন্ধ করার কারন জানতে চাইলে তারা দুজনে আমার নিকট এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা দেয়ার পর কাজ করতে বলেন। আমি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আলমগীর হোসেন ও শহিদুল ইসলাম অতর্কিত আমার উপর হামলা করে আমার কাছে থাকা শ্রমিকদের মজুরীর ৮০হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ সময় কাজে নিয়োজিত থাকা শ্রমিক ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে তারা আমাকে জীবন-নাশের হুমকী দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

 

কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মাছুদুর রহমান জানান, মামলার ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

Ads