থেমে গেলো ক্যান্সারে আক্রান্ত বাবার চিকিৎসার টাকার যোগান
১৮ আগস্ট ২০২৪, ১২:২০ পিএম
লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার বাসিন্দা মোঃ আব্দুস সালাম ও মোহছেনা বেগম দম্পতি তিন সন্তান সহ পাঁচ সদস্যের পরিবার।
২০২১ স্বামী আব্দুস সালাম কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, রংপুরে চিকিৎসা করানোর পর সর্বস্ব শেষ হয়ে যায় তাদের,গরীব অসচ্ছল পরিবার হাওয়ায় ক্যান্সারের ব্যয়বহহুল চিকিৎসা করাতে না পেরে সদ্য এইচএসসি পাশ করা বড় ছেলে মিরাজ হোসেন ও দশম শ্রেণী পড়ুয়া মেজো ছেলেকে নিয়ে ঢাকায় পাড়ি দেন বড় ছেলে মিরাজ একটি মোবাইলের দোকানে ও মেজো ছেলে মেজবাউল একই এলাকায় একটি গার্মেন্টসে কাজ সুরু করেন তাদের রোজগারের টাকা দিয়ে ঢাকায় একটি হাসপাতালে তাদের বাবা আব্দুস সালামের ক্যান্সারের চিকিৎসা চলছিলো।
গত ৫ আগস্ট সোমবার, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নিজের ফুফাতো ভাই মোহাম্মদ আলীকে নিয়ে যাত্রাবাড়ীতে ছাত্র আন্দোলনে যোগদেয়, বিকেল তিনটায় ফুপাতো ভাই মোহাম্মদ আলী ও মিরাজ দুজনই পুলিশের গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।
খবর পেয়ে ক্যান্সারে আক্রান্ত অসুস্থ বাবা আব্দুস সালাম তাদেরকে নিয়ে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরে সর্বশেষ ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করান মিরাজকে ও ফুফাতো ভাই মোহাম্মদ আলীকে ভর্তি করান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে। কোমরে গুলিবিদ্ধ মিরাজ এর অবস্থা দিন দিন খারাপ ও মেডিকেলে ভালো চিকিৎসা না পাওয়ায় তাদের নিয়ে চলে আসেন রংপুর মেডিকেলে রংপুর মেডিকেলের চিকিৎসারত অবস্থায় গত ৮ আগস্ট মৃত্যু বরণ করেন মিরাজ।
শহীদ মিরাজের বাবা মোঃ আব্দুস সালাম বলেন, পরিবারের উপার্জনকারী বড় ছেলে না থাকায় হতাশায় দিন কাটছে তাদের অনিশ্চিত হয়ে গেছে তার ক্যান্সারের চিকিৎসা। ঢাকায় মিরাজের চিকিৎসা ও মিরাজকে ঢাকা থেকে রংপুরে নিয়ে এসে চিকিৎসা করাতে লক্ষাধিক টাকা শেষ হয়ে গেছে বলে জানান তিনি ঋণ করে করিয়েছেন মিরাজের চিকিৎসা।
অসুস্থ মিরাজের বাবা আব্দুস সালাম আরও বলেন ছেলে রক্তের বিনিময়ে দেশের মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছেন এতে তিনি খুশি, ছেলে হত্যার বিচার চান করবেন মামলা। ইতিমধ্যেই মামলা করার জন্য আদিতমারি থানায় গিয়েছেন কিন্তু ঘটনা যাত্রাবাড়ী থানার হাওয়ায় মামলা নেননি পুলিশ।
ঢাকায় গিয়ে মামলা করার মতো টাকা নেই তার, তাই মামলা করতে বিলম্ব হচ্ছে শহীদ মিরাজের বাবা আব্দুস সালামের।

















