টেকনাফে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৮:১৮ পিএম
কক্সবাজার টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ দিন দিন বাড়ছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, টেকনাফে মোট ২০ টির অধিক পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গারা কৌশলে অনুপ্রবেশ করছে।
বিভিন্ন দালাল চক্র রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে নিজ দায়িত্বে পৌঁছে দিচ্ছে কক্সবাজারের বিভিন্ন শরনার্থী ক্যাম্পে। রোহিঙ্গা শরণার্থীর মাধ্যমে জানতে পারি জন প্রতি পাঁচ থেকে আট হাজার টাকা বিনিময়ে তাদের গন্তব্য স্থানে পৌঁছে দিচ্ছে দালাল চক্র।
সীমান্তের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দখল নিতে আরাকান আর্মি দেশটির সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই করছেন।মোট ২৬ টি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এ লড়াইয় সশস্ত্র অংশগ্রহণ করেছে।
আরাকান আর্মি গত ৬ মাস ধরে যুদ্ধ করে আসছে।এর মধ্যে রাখাইনের অধিকাংশ অঞ্চল ও দেশটির সেনা ও বিজিপি'র ক্যাম্প, চৌকি দখলে নিয়েছে বলে জানা যায়।
অপরদিকে সরকারি বাহিনীও মংডু শহর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পাল্টা হামলা অব্যহত রেখেছে।
এই মরণ সংঘাতের জেরে মংডু সহ আশপাশের গ্রামে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের প্রাণ হানি ঘটছে প্রতিনিয়ত।
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী প্রাণ বাচাঁতে নতুন করে অনুপ্রবেশের ঝুঁকি নিচ্ছেন বলে জানা যায়।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, গত এক মাসে আট থেকে বারো হাজার রোহিঙ্গা নৌকা করে নাফনদী পার হয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে।
রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করাতে দালাল চক্র সহজ রাস্তা হিসেবে টেকনাফ সীমান্তের মোট ২০ টি পয়েন্ট ব্যাবহার করছে ।
তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য পয়েন্ট জাদিমোরা, দমদমিয়া, কেরুনতলি, বরইতলি, নাইট্যংপাড়া, জালিয়াপাড়া, নাজিরপাড়া, মৌলভীপাড়া, নয়াপাড়া, শাহপরীর দ্বীপ, জালিয়াপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, ঘোলারচর, খুরেরমুখ, আলীর ডেইল, মহেষখালীয়াপাড়া, লম্বরী, তুলাতলি, রাজারছড়া, বাহারছড়া উপকূল সহ আরও অনেক।
সীমান্তের দায়িত্বরত বিজিবি ও কোস্ট গার্ড সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কৌশলে রোহিঙ্গাদের প্রবেশ করিয়ে উখিয়া ও টেকনাফের শরনার্থী ক্যাম্পে অবস্থানরতদের আত্মীয় স্বজনদের বাসায় পৌছে দিচ্ছে।
উখিয়া ,টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন আবাসিক, (ভাড়া বাসায়) কৌশলে আশ্রয় নিচ্ছে।
রাখাইন রাজ্যের মংডু থেকে দালালদের সহায়তায় টেকনাফে আসা রহিম উল্লাহ বলেন,রাখাইনে আরাকান আর্মি ও দেশটির সেনাবাহিনীর মধ্যেই তীব্র যুদ্ধ চলছে।
বিভিন্ন অগ্নি অস্ত্র ব্যবহারে ঘর-বাড়িতে আগুনে পুড়ে যায়। প্রাণহীনর ঘটনা ঘটেছে প্রতিনিয়ত। প্রাণ বাঁচাতে নৌকা করে নাফনদী পার হয়ে টেকনাফের বড়ইতলী দিয়ে রাতে আধারে চলে আসতে বাধ্য হয়েছি। স্থানীয় কিছু লোকজন জনপ্রতি পাঁচ থেকে আট হাজার টাকা করে নিয়েছিল।
উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিজিবি ও কোস্টগার্ড বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে এরই মধ্যে অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
জানা যায় অনুপ্রবেশর অপেক্ষায় রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন পয়েন্টে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা জড়ো হয়ে রয়েছেন।
টেকনাফ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী বলেন,রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবি ও কোস্ট গার্ড সদস্যরা কাজ করছেন।এবং অনেক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ তারা ঠেকিয়েছেন।
তবে টেকনাফ উপজেলায় রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশের পরে যেসব লোক রোহিঙ্গাদের বাসা ভাড়া দিয়েছে বা দিতেছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে এ কর্মকর্তা জানায়।
















