রঙ তুলির আঁচড়ে দেবী দুর্গাকে দৃষ্টিনন্দন করতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা
০৫ অক্টোবর ২০২৪, ১১:৫৫ এএম
সনাতন সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবী দুর্গার অনিন্দ্য সুন্দর রূপ দিতে রঙ তুলির আঁচড়ে ও সাজসজ্জায় প্রতিমাকে দৃষ্টিনন্দন করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। দম ফেলার ফুরসৎ নেই তাদের। এ বছর উপজেলার ৩৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এরইমধ্যে ঢাকের বাদ্য আর প্রতিমা তৈরিতে কারিগরদর ব্যস্ততা জানান দিচ্ছে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা। আগামী ৯ অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে দেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্যে দিয়ে শুরু হবে পাঁচদিনের শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। ইতোমধ্যেই অধিকাংশ প্রতিমার বাঁশ-কাঠের উপর মাটির প্রলেপ দিয়ে মূল কাঠামো নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। কল্পনায় দেবী দুর্গার অনিন্দ্য সুন্দর রূপ দিতে রঙতুলির আঁচড়ে ও সাজসজ্জায় প্রতিমাকে দৃষ্টিনন্দন করার কাজে ব্যস্ত প্রতিমা শিল্পীরা।
এবার পৌরসভায় ৮টি, রুকিন্দীপুর ইউনিয়নে ৬টি, সোনামুখী ইউনিয়নে ০৩টি, গোপীনাথপুর ইউনিয়নে ১০টি, তিলকপুর ইউনিয়নে ০৩টি রায়কালী ইউনিয়নে ৭টি সহ উপজেলায় মোট ৩৭টি মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ আগরওয়ালা বলেন, পূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আনসার ভিডিপি, সেনাবাহিনী, পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে প্রতিটি মণ্ডপে নিরাপত্তার জন্য স্বেচ্ছাসেবক থাকবে।
উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপে ঘুরে দেখা যায় মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে নানান প্রস্তুতি। সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা, প্যান্ডেল তৈরি ও ডেকারেশনসহ অন্যান্য কাজগুলো ধীরে ধীরে এগিয়ে চলছে।
আক্কেলপুর পৌর শহরের রেল কলোনী স্টেশন রোড সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে কাজ করছেন বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলার সড় তলা মহল্লার শ্রী তন্ময় মালাকার।
তন্ময় মালাকার বলেন, এ বছর তিনি বিভিন্ন এলাকায় ১৩টি মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ নিয়েছেন। আকার ভেদে প্রতিটি প্রতিমার পারিশ্রমিক নিচ্ছেন ২৫ থেকে ৬৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।
আক্কেলপুর কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দিরের পূজা কমিটির সভাপতি শ্রী কমল চন্দ্র দাস বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে এই মন্দিরে পূজা অর্চনা হয়ে আসছে। বিজয়া দশমীর দিন বিশাল মেলা বসে মন্দির প্রাঙ্গণে। আমাদের এই মন্দিরটি তুলশী গঙ্গা নদী সংলগ্ন হওয়ায় প্রতি বছর নৌকায় মা দুর্গাকে তুলে কয়েক কিলো প্রদক্ষিণ করে সন্ধ্যায় বিসর্জন দেওয়া হয়। এই সময় শত শত দর্শনার্থীরা নৌকায় চরে ভ্রমণ ও উপভোগ করে।
উপজেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ওমপ্রকাশ আগরওয়ালা বলেন, “ধর্ম যার যার উৎসব সবার” বাঙালি জাতির মহা উৎসব দুর্গাপূজা যা আদিকাল থেকে সার্বজনীন ভাবে পালন হয়ে আসছে। প্রতিটি ঘরে ঘরে মহা আনন্দ উৎসব পালন হয়। আসুন আমরা সবাই মিলে মুক্তি লাভের জন্য দুর্গতিনাশিনী মা দূর্গার কাছে প্রার্থনা করি।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মইনুল ইসলাম জানান, মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত ছাড়াও প্রতি পূজা মণ্ডপে পুলিশি টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলে স্বেচ্ছাসেবক রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ থাকবে।

















