ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে গণমাধ্যম ও অংশীজনের ভূমিকা শীর্ষক সভা

এইচ.এম. সিরাজ

১৯ নভেম্বর ২০২৪, ০৫:১৫ পিএম


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে গণমাধ্যম ও অংশীজনের ভূমিকা শীর্ষক সভা

 

ঞ্চলিক তথ্য অফিস পিআইডি চট্টগ্রামের উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের সহযোগিতায় 'বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে গণমাধ্যম ও অংশীজনের ভূমিকা' শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) সকালে কালেক্টরেট সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম।

চট্টগ্রাম পিআইডি’র উপ-প্রধান তথ্য অফিসার মীর হোসেন আহসানুল কবীরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মো. নোমান মিয়া, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ রুহুল আমিন। মতবিনিময় সভার শুরুতেই জুলাই শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন সিনিয়র তথ্য অফিসার বাপ্পী চক্রবর্তী। জেলা তথ্য অফিসার দীপক চন্দ্র দাস মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত তুলে ধরেন।

চট্টগ্রাম পিআইডি’র তথ্য অফিসার জি.এম সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় মুক্ত আলোচনা পর্বে প্রেস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক মো. বাহারুল ইসলাম মোল্লা, সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ আরজু, মনজুরুল আলম, প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, সহ-সভাপতি নিয়াজ মোহাম্মদ খান বিটু, টেলিভিশন জার্নালিষ্ট এসোসিয়শনের নবনির্বাচিত সভাপতি আল আমিন শাহীন, সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান লিমন, সাংবাদিক শাহাদাত হোসেন, শফিকুল ইসলাম, উজ্জ্বল চক্রবর্তী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি মোহাম্মদ সিয়াম বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন। এসময় বক্তারা বলেন, হলুদ সাংবাদিক বা ভুয়া সাংবাদিকদেরকে চিহ্নিত করে তাদের ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। গণমাধ্যমকে নিরপেক্ষ হতে হবে এবং অসংগতিপূর্ণ সংবাদ প্রচার বন্ধ করতে হবে।জেলা বা উপজেলার সাংবাদিকরা যাতে নিজস্ব মতামত তুলে ধরতে পারে সেটি নিশ্চিতের পাশাপাশি মিডিয়া হাউজের নিজস্ব সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। জুলাই আন্দোলনে জেলা উপজেলায় যেসব ছাত্র-জনতা হতাহত হয়েছেন, তাদের পরিবারের বর্তমান অবস্থা ডিএফপি’র প্রকাশনার মাধ্যমে প্রকাশ করে সারা বাংলাদেশে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে দেশের মানুষ তাদের কথা জানতে পারবে।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম  বলেন, বৈষম্যর কারণে একাত্তরে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিলো। সেই একই বৈষম্যর ফলে ছাত্ররা জুলাই বিপ্লবের মধ্যদিয়ে দেশকে স্বৈচারার মুক্ত করেছে। তারা রক্ত দিয়ে-জীবন দিয়ে আমাদেরকে দেশের প্রতি ভালোবাসার শিক্ষা দিয়ে গেছেন, তাদের অবদান অনস্বীকার্য। আন্দোলন বিফল হলে তারা গণশত্রুতে পরিণত হতো। এই অর্জন ধরে রাখতে হলে আমাদেরকে নির্ভিক হয়ে কাজ করতে হবে, দেশটাকে ভালোবাসতে হবে।  যেভাবে বিগত সরকারের প্রশাসন থেকে শুরু করে সাংবাদিক পর্যন্ত চাটুকারিতা করেছে তাতে দেশের সব সিস্টেম নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সংবাদমাধ্যমকে রাষ্ট্র সংস্কারের দায়িত্ব নিতে হবে। এখন সাংবাদিকদের উপর কোনো চাপ নেই। তাই, অপসাংবাদিকতা বা ভুয়া সাংবাদিকতা পরিহার করে সঠিক লেখনির মাধ্যমে দেশের মানুষের কাছে সত্য তথ্য তুলে ধরতে হবে। তবে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ীদেরকে পত্রিকার তথা মিডিয়ার মালিক করা যাবে না এবং ৮ম শ্রেণি পাশ কোন মানুষ যাতে প্রেস ক্লাবের সদস্য হতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

মতবিনিময় সভার শুরুতে জুলাই শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সাংবাদিক, শিক্ষক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ,ছাত্র সমন্বয়কসহ ৫০ জন প্রতিনিধি মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন।

 

Ads