আমনের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক

চৈতন্য চ্যাটার্জী

২৬ নভেম্বর ২০২৪, ০২:১৩ পিএম


আমনের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক

 

য়পুরহাটের আক্কেলপুরে শুরু হয়েছে রোপা আমন ধান পুরোদমে কাটা-মাড়াই। ধান কাটা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে কৃষক ও দিনমজুরদেরও। কৃষকের ঘরে গোলা ভরতে শুরু করেছে ধানে। পৌরসভা সহ, উপজেলার রুকিন্দীপুর, গোপীনাথপুর, সোনামুখী, তিলকপুর, রায়কালী ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, এ বছর তেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধানের বাজারদর ভালো থাকায় এ বছর লাভবান হবেন বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

কৃষকের বাড়িতে নতুন ধানের মৌ মৌ গন্ধ ছড়াচ্ছে। নতুন ধান কেটে মাড়াই করে খড়ের দামও পাচ্ছেন তারা। আগাম জাতের ধান কেটে ওই জমিতে আলু, সরিষা, গমসহ শীতকালীন সবজি আবাদও করা হচ্ছে।

আমন ধান রোপণের পর থেকে শস্য না কাটা পর্যন্ত কৃষি শ্রমিকদের হাতে কোন কাজ থাকতো না। বর্তমানে কৃষি শ্রমিকেরা ভুট্টা, আলু, সরিষা ও গমসহ বিভিন্ন জমিতে কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি রোপা আমন মৌসুমে উপজেলায় ধান চাষাবাদের লক্ষমাত্রা ছিল ১০ হাজার ৬ শ’ ৪০হেক্টর জমিতে। গত মৌসুমে ধানের ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় এবার সেখানে উচ্চ ফলনশীল রোপা আমন স্বর্ণ-৫, গুটি স্বর্ণ, বিনা ধান ১৭, বিনা ধান ২২,  ব্রি ধান-৩৪, ব্রি ধান ৭৫, ব্রি ধান ৯০, ১০৩, ধানী গোল্ড, রনজিত, চিনি আতব এবং হাইব্রিড জাতের ধান লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে আরও ৫হেক্টর বেশি জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে । প্রকারভেদে প্রতি মণ ধান বিক্রি হয়েছে ১৩শ ৫০টাকা থেকে ১৪শ টাকা পর্যন্ত।

উপজেলার রোয়াইর গ্রামের কৃষক মো. মোসলেম সরদার বলেন, এবার আমন মৌসুমে স্বর্ণ-৫ ও ধানী গোল্ড জাতের আগাম ধান ৪ বিঘা জমিতে আবাদ করে বেশ লাভবান হয়েছি। প্রতি মন ধান সর্বোচ্চ ১৩শ ৫০টাকা থেকে ১৪শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছি। আগাম জাতের ধান কাটার পর সেই জমিতে সরিষা চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তিনি বলেন আমি আরো ২ বিঘা জমি খায়খালাসি (পত্তনি) নিয়েছি যার বিঘা প্রতি ২২হাজার টাকা করে বছরে দিতে হয়।

উপজেলা তেমারিয়া গ্রামের কৃষক মোঃ রাশেদুল ইসলাম পাইলট বলেন, এবার আমন মৌসুমে দুই জাতের আগাম ধান ২০বিঘা জমিতে আবাদ করে বেশ লাভবান হয়েছি। ধান বিঘা প্রতি দিনমজুরদের কাটতে দিতে হচ্ছে ৪ হাজার টাকা, মাড়াই ৬০০টাকা, পানি সেচ ১হাজার টাকা দিতে হয়েছে সার, বীজসহ প্রায় এক বিঘা জমিতে খরচ হচ্ছে ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। প্রতি বিঘায় ধান হচ্ছে ১৯ থেকে ২০মন তা বাজারে ১৩শ ৫০টাকা থেকে ১৪শ পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ ইমরান হোসেন জানান, উপজেলায় উচ্চ ফলনশীল রোপা আমন স্বর্ণ-৫, গুটি স্বর্ণ, বিনা ধান ১৭, বিনা ধান ২২,  ব্রি ধান-৩৪, ব্রি ধান ৭৫, ব্রি ধান ৯০, ১০৩, ধানী গোল্ড, রনজিত, চিনি আতব এবং হাইব্রিড জাতের ১০হাজার ৬৪৫ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে। আজ পর্যন্ত ৮হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে ধান কর্তন করা হয়েছে।  কৃষকদের চাহিদা মতো সার  ও কীটনাশক সরবরাহ পাওয়ায়  ধানে রোগ বালাই কম হয়েছে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় প্রতি হেক্টর জমিতে ৫ টন করে ধান কৃষকদের ঘরে উঠেছে।

 

Ads