আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরত ও শাস্তির দাবিতে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের মানববন্ধন
০৯ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:৩৬ পিএম
ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে টাকা ফেরত ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ইসলামী ব্যাংক আক্কেলপুর এজেন্ট শাখার ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা।
বুধবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদের সামনে ইসলামী ব্যাংক আক্কেলপুর এজেন্ট শাখার ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক ও দারুল কোরআন মাদরাসা ভুক্তভোগী গ্রাহকদের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করেন। এতে উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা, এতিমখানা, মসজিদের কমিটি ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে ক্ষতিগ্রস্থ ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানান, ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শাখার ক্যাশিয়ার মাসুদ রানা লেনদেনের মোবাইল ম্যাসেজ বন্ধ করে কৌশলে গ্রাহকের একাধিকবার আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে একাউন্ট থেকে টাকা তুলে নিতেন। তিনি উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত ব্যাংক একাউন্ট থেকে দেড় কোটি টাকার উপরে আত্মসাৎ করেছেন। গত ২৩ মার্চ ঘটনাটি গ্রাহকদের মাঝে ছড়িয়ে। পরে উপস্থিত গ্রাহক, সাংবাদিকসহ সকলের সামনে টাকা গুলো আত্মসাতের বিষয়টি অকপটে ক্যাশিয়ার মাসুদ রানা স্বীকার করে। এই ঘটনায় আক্কেলপুর দারুল কোরআন মাদ্রাসার মুহতামিম (প্রধান শিক্ষক) ফিরোজ আহম্মেদ বাদি হয়ে আক্কেলপুর থানায় এজেন্ট ব্যাংকের ক্যাশিয়ার (কোষাধ্যক্ষ) মাসুদ রানা, ইনচার্জ রিওয়ানা ফারহানা সিমা ও এজেন্ট মালিক মো. জাহিদুল ইসলাম আনজুর নামে মামলা করলে তিন জনকেই গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ। কিন্তু একদিন পরই আদালত তাদের সকলকে জামিন দিয়ে দেন। এতে গ্রাহকদের আমানতের টাকা পাওয়া এবং তাদের শাস্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। প্রতারকদের জামিন বাতিল করে গ্রাহকদের টাকা ফেরত, শাস্তি ও দেশ ছাড়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার দাবি জানান তাঁরা।

মানববন্ধনে আক্কেলপুর দারুল কোরআন মাদ্রাসার সহকারি অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দীন বলেন, আমাদের টাকা গত ২৩ এপ্রিল ব্যাংক আত্মসাৎ করেছে। টাকা ফেরতের দাবিতে আমরা মানবন্ধন করছি। এজেন্ট ব্যাংকের মালিক জাহিদুল আনজুর, ক্যাশিয়ার মো. মাসুদ রানা এবং ইনচার্জ রিওয়ানা ফারজানার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
হাইটেক পৌর কিন্ডার গার্টেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, আমাদের বিশ্বাস ছিল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ব্যাংক। সুদে লেনদেন করব না ভেবে এই ব্যাংকে টাকা লেনদেন করি কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের প্রয়োজনে টাকা উত্তলনের জন্য আসলে দেখা যায় আমাদের অ্যাকাউন্টে কোন টাকা নাই। পরে জানতে পারলাম শুধু আমরা না শত শত মানুষের কোটি টাকার উপরে আত্মসাৎ করা হয়েছে। মাদ্রাসা, এতিম খানায়ে ফেতারা, জাকাতের টাকাও তারা আত্মসাৎ করেছে। আমাদের টাকা আমরা ফেরত চাই।

আমানত কারি গ্রাহক শাহিনুর রহমান বলেন, বিশ্বাস করে ১০ লক্ষ টাকা ব্যাংকে গচ্ছিত রেখেছিলাম। সার্ভারের সমস্যাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা বলে মোবাইলে এসএমএস পাঠাতো না। পরে প্রতারণার কথা জানতে পারলে ক্যাশিয়ার স্বীকারও করেন। তাদের জামিন বাতিল করে আইনের আওতায় নিয়ে দৃষ্টান্ত শাস্তি দিতে হবে।
উপজেলার রামশালা গ্রামের মিতু আক্তার কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার স্বামী প্রবাসে থেকে কঠোর পরিশ্রম করে এই এজেন্ট শাখায় টাকা পাঠায়। সেগুলো তারা কৌশলে আত্মসাৎ করেছে। টাকা গুলো হাড়িয়ে এখন সংসারে অশান্তি শুরু হয়েছে। টাকা গুলো ফেরত না পেলে আমার সংসার ভেঙে যাবে। তাদের শাস্তি চাই।

ইসলামী ব্যাংক জয়পুরহাট শাখার ব্যাবস্থাপক হাবিবুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত দেড় কোটি টাকারও বেশি আত্মসাতের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তবে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এ ঘটনায় ব্যাংকের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের সাথে কথা বলে তদন্ত করা হচ্ছে। আপাতত ওই এজেন্ট শাখায় লেনদেন বন্ধ রাখা হয়েছে। গ্রাহকদের খোয়া যাওয়া টাকার সঠিক পরিমান বেড় করে টাকা গুলো ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আইনগত প্রক্রিয়া চলমান আছে।

















