ব্যাংকের আত্নসাতের টাকায় মাসুদ রানা ‘এজেন্ট’ থেকে ‘ব্যবসায়ী’

চৈতন্য চ্যাটার্জী

০৮ আগস্ট ২০২৫, ০১:১৬ পিএম


ব্যাংকের আত্নসাতের টাকায় মাসুদ রানা ‘এজেন্ট’ থেকে ‘ব্যবসায়ী’

ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি

সলামী ব্যাংকের জয়পুরহাটের আক্কেলপুর এজেন্ট শাখায় বিপুল পরিমাণ টাকা আত্নসাতের  দুটি  মামলায় তিন আসামিকে রিমান্ডে এনে  জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে পুলিশ। গত বুধবার তাঁদের তিন দিনের রিমান্ড শেষ হচ্ছে। এদিন দুপুরে ওই তিন আসামিকে এজেন্ট ব্যাংকের কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।  পুলিশ  তাঁদের তিন জনকে  সঙ্গে ব্যাংকের কার্যালয় তল্লাসী করে। এসময় ইসলামী ব্যাংকের জয়পুরহাট শাখার ব্যবস্থাপক, দুই জন কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ব্যাংকের ভোল্ট থেকে কিছু নগদ টাকা, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও ছাপা ভাউচার  জব্দ করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। 

রিমান্ডে থাকা তিন আসামি হলেন, এজেন্ট শাখার মালিক জাহিদুল ইসলাম, ব্যবস্থাপক রিওয়ানা ফারজানা, ক্যাশিয়ার মাসুদ রানা। গত সোমবার তাঁদের তিন দিনের রিমান্ডে আনা হয়।  রিমান্ডে ক্যাশিয়ার মাসুদ রানা আত্নসাৎ করা টাকা কোথায় কিভাবে ব্যয় করেছেন তা জানিয়েছেন।   তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র রূপালী বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  

গত ২৪  মার্চ  ইসলামী ব্যাংকের আক্কেলপুর এজেন্ট শাখায়  গ্রাহকদের টাকা আত্নসাতের ঘটনা ধরা পড়ে। ওইদিন ক্যাশিয়ার মাসুদ রানা অকপটে গ্রাহকদের টাকা আত্নসাত করার স্বীকার করেন।  গ্রাহকদের টাকা আত্নসাতের স্বীকারোক্তির ভিড়িও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ওইদিন রাতেই পুলিশ এজেন্ট ব্যাংকের কার্যালয় থেকে ক্যাশিয়ার মাসুদ রানা, ব্যবস্থাপক রিওয়ানা ফারজানা ও এজেন্টের মালিক জাহিদুল ইসলামকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এক গ্রাহক তাঁদের তিন জনের বিরুদ্ধে আক্কেলপুর থানা একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে পরদিন  আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। একদিন পর তাঁরা সবাই জামিনে ছাড়া পান। 

এই এজেন্ট ব্যাংকে সব মিলিয়ে প্রায় আড়াই হাজার হিসাবধারী আছেন। সার্ভারের সমস্যা কথা বলে তাঁদের কাছে একাধিক বার ফিঙ্গার ও জমা ভাউচারে ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের চেক দিয়ে স্থায়ী আমানতের টাকা আত্নসাৎ করা হয়েছে।  প্রতারিত গ্রাহকেরা টাকার ফেরত ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে গত ৯ এপ্রিল আক্কেলপুর পৌরশহরে ও ১৩ এপ্রিল একই দাবিতে জয়পুরহাট শহরে ইসলামী ব্যাংকের সামনে মানববন্ধন করেন। এরপর তাঁদের বিরুদ্ধে পৃথক আরও সাতটি  মামলা দায়ের করা হয়।  গত ২০ এপ্রিল রাতে ব্যবস্থাপক রিওয়ানা ফারজানাকে আক্কেলপুর থানা পুলিশ বগুড়ার দুঁপচাচিয়ার তালোড়া বোনের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ।  ক্যাশিয়ার মাসুদ রানা গত ৭ মে  আদালতে আত্নসর্মপন করেন। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন। 

ক্যাশিয়ার মাসুদ রানাকে  গত ৭ মে একভাবে  তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এরপর এজেন্ট ব্যাংকের মালিক জাহিদুল ইসলামের জামিন নামঞ্জুর করা হয়। গত সোমবার দুটি মামলায় তাঁদের তিন জনকে রিমান্ডে আনা হয়। আজ বুধবার তিন দিনের রিমান্ড শেষ হয়েছে।  পুলিশের একটি সূত্র জানায়, রিমান্ডে ক্যাশিয়ার মাসুদ রানা জানিয়েছেন, তিনি  আত্নসাৎ করা টাকায় ১৭ বিঘা জমি বন্ধকী, চার বিঘা জমি ক্রয়, পুকুর লীজ, মাছের খাদ্যের দোকান ও ইসলামী ব্যাংকের একটি এজেন্ট শাখা নিয়েছেন। ইসলামী ব্যাংকের জয়পুরহাট শাখার  আবুল হোসেন একজন কর্মকর্তা এ শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁকেও তিনি ২০ লাখ টাকা দিয়েছেন।ইসলামী ব্যাংকের জয়পুরহাট শাখার ব্যবস্থাপক হাবিবুর রহমান বলেন, আবুল হোসেন কিছুদিন এ এজেন্ট শাখার ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব ছিলেন। তখন ক্যাশিয়ার মাসুদ রানা তাঁকেও নাকি বিশ লাখ টাকা দিয়েছেন বলে পুলিশকে বলছে। পুলিশ রিমান্ডের তিন আসামিসহ আমাদের সঙ্গে নিয়ে ব্যাংকের ভোল্ট দেখেছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই গোলাম রব্বানী বলেন, ইসলামী ব্যাংকের আক্কেলপুর এজেন্ট শাখায় গ্রাহকদের টাকা আত্নসাতের মামলায় তিন আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে আনা হয়েছিল। রিমান্ডে আসামী মাসুদ রানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।  ব্যাংকের ভল্ট থেকে কিছু নগদ টাকা, প্রয়োজনীয় নথিপত্র, ভাউচার ও চেক জব্দ করা হয়েছে। 

ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শাখার প্রতারিত গ্রাহকদের টাকা ফেরতের আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আব্দুস ছালাম মাস্টার। তিনি সেই সময় সাংবাদিকদের  জানিয়েছিলেন, গ্রাহকদের প্রায়  চার কোটি টাকার আত্নসাত করা হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের লোকজনও এ ঘটনায় জড়িত রয়েছেন। 

Ads