খাগড়াছড়িতে ‘জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা’ অনুমোদন বাতিলে নাগরিক সমাজের মানববন্ধন
২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
জনসাধারণ ও বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করে সরকার ২৫ বছর মেয়াদি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা (ইপিএসএমপি) ২০২৫ অনুমোদনের পথে এগোনোর প্রতিবাদ জানিয়েছে খাগড়াছড়ির নাগরিক সমাজ।
ক্লিন এনার্জি দিবস উপলক্ষে ২৬ জানুয়ারি সোমবার খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবের সামনে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ও স্থানীয় বিভিন্ন এনজিওর অংশগ্রহণে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ২০৫০ সালে বাংলাদেশের কার্বন নিঃসরণ দাঁড়াবে ১৮৬.৩ মিলিয়ন টনে, যা পরিবেশ, জলবায়ু এবং জাতীয় অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে স্থানীয় সংগঠনের পাশাপাশি বাংলাদেশের পরিবেশ ও উন্নয়ন কর্মজোট (বিডব্লিউজিইডি), জাবারাং কল্যাণ সমিতি, ক্লিন এবং পরিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম খাগড়াছড়ি অংশগ্রহণ করে।
মানববন্ধনে জাবারাং কল্যাণ সমিতির কর্মসূচি পরিচালক বিনোদন ত্রিপুরা বলেন, মহাপরিকল্পনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির কথা বলা হলেও বাস্তবে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর কোনো কার্যকর দিকনির্দেশনা নেই। বরং ২০৫০ সালেও দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার ৫০ শতাংশ এলএনজি, কয়লা ও তেলের ওপর নির্ভরশীল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হাইড্রোজেন ও কার্বন ক্যাপচারের মতো ব্যয়বহুল ও পরীক্ষামূলক প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যা দেশকে নতুন ঋণ ও ভর্তুকির ফাঁদে ফেলতে পারে।
বিনোদন ত্রিপুরা সারাদেশব্যাপী চলমান প্রতিবাদ কর্মসূচির চারটি মূল দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো
এক. অবিলম্বে ইপিএসএমপি ২০২৫ বাতিল করা
দুই. স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু করা
তিন. শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানির বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ প্রণয়ন
চার. পরিবেশবান্ধব ও ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করা
তিনি বলেন, “এই মহাপরিকল্পনাটি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষিত তিন-শূন্য দর্শন, অর্থাৎ শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বনের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।”

















