খাগড়াছড়িতে জামায়াতের নারী বিভাগের সমাবেশ

দাঁড়িপাল্লা এখন দেশের সকল সাধারণ মানুষের প্রতীক’- এয়াকুব আলী চৌধুরী

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২৩ এএম


দাঁড়িপাল্লা এখন দেশের সকল সাধারণ মানুষের প্রতীক’- এয়াকুব আলী চৌধুরী

 

খাগড়াছড়ি জেলায় এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে- যেখানে ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমাসহ সকল সম্প্রদায়ের নারীরা কোনো প্রকার ভয়ভীতি বা বৈষম্য ছাড়াই চাকরি ও ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন। বিশেষ করে অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র স্থানীয় হাট-বাজারগুলোতে নারীদের অবাধ ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার অগ্রাধিকার থাকবে আমার অন্যতম প্রতিশ্রুতি বললেন- খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এডভোকেট মো. এয়াকুব আলী চৌধুরী।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) পৌর টাউন হলে জামায়াতের নারী বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত মহিলা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে আপনাদের প্রয়োজনীয় মন্দির, গীর্জা নির্মাণ করে দেওয়া হবে। এগুলো আপনাদের নাগরিক অধিকার।‘দাঁড়িপাল্লা এখন শুধু জামায়াতে ইসলামীর প্রতীক নয়; বরং এটি সমগ্র বাংলাদেশের সকল সাধারণ মানুষের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।’

অ্যাডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরী আরো বলেন, ‘দেশের রাজনীতিতে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে যাদের অবস্থান তারা দাঁড়িপাল্লাকে সামনে রেখে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। বর্তমানে দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রতীক হলো দাঁড়িপাল্লা, যার কোনো বিকল্প নেই।’

এয়াকুব আলী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সকল ঠিকাদারি, বালুর মহলসহ যত কর্মকাণ্ড ছিল সবকিছু বিএনপির নেতাকর্মীরা দখল করে নিয়েছে। গত দেড় বছরে অনিয়ম, দুর্নীতি, চাদাবাজির কারণে বিএনপি একটি জনবিচ্ছিন্ন দলে পরিণত হয়ে পড়েছে।’

জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সকল নারীদের বোরখা পড়তে হবে, প্রতিপক্ষ দল এমন অপপ্রচারে লিপ্ত অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা মা-বোনেরা তাদের চাকরি, ব্যবসাসহ হাটে-বাজারে যেতে পারবেন, স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন। সকল ধর্মের মা-বোনের স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারবেন। কেউ বাধা দিবে না। বরং জামায়াত ক্ষমতায় গেলে আপনাদের প্রয়োজনীয় মন্দির, গীর্জা নির্মাণ করে দিবে। এগুলো আপনাদের নাগরিক অধিকার।’

ইসলাম নারীর অধিকার ও মর্যাদাকে সমুন্নত করেছে উল্লেখ করে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী এয়াকুব আলী বলেন, ‘কোনো আদর্শই নারীর এ অধিকার নিশ্চিত করতে পারেনি। আগামী নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট তথা জামায়াতের কাছে এ দেশের মা-বোনেরা নিরাপদ। বিশ্ববিদ্যায়লগুলোতে শিবিরকে বিজয়ী করেতে নারী ভোটারদের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।’

অমুসলিমদের জামায়াতের প্রার্থী করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী কোনো সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল নয়। বরং সকল সম্প্রদায়কে নিয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে চায় জামায়াতসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট। জামায়াত করলে, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে আপনাকে ধর্ম পরিবর্তন করতে হবে এমনটা ভাবার প্রয়োজন নেই। আপনি আপনার ধর্ম ঠিক রেখে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে পারবেন।’

এ সময় তিনি এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে খাগড়াছড়িতে প্রযু্ক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের আশ্বাস দেন। জবাবদিহিতামূলক ও দুর্নীতিমুক্ত খাগড়াছড়ি গড়তে তিনি সকলকে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।

নারী বিভাগের জেলা সহকারী সেক্রেটারি বিবি ছায়েরার সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন জামায়াতের জেলা আমির অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল মোমেন, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চল সংগঠক মঞ্জিলা ঝুমা, এনসিপির লিসা মনি, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মিনহাজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মো: ইউসুফসহ ১১ দলীয় জোটের জেলা নের্তৃবৃন্দ।

 

Ads