খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় ফের অগ্নিকাণ্ড, পুড়েছে অন্তত ৩৫টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান


খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় ফের অগ্নিকাণ্ড, পুড়েছে অন্তত ৩৫টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান


ক বছরের ব্যবধানে আবারও অগ্নিকাণ্ডে পুড়েছে খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার বোয়ালখালী বাজারের অন্তত ৩৫টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ২০২৬) দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে এ আগুনের সূত্রপাত ঘটে।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দীঘিনালা ও খাগড়াছড়ি সদর ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় ভোর ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

দীঘিনালা ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পুড়ে যাওয়া দোকানগুলোর মধ্যে ওষুধ, কাপড়সহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অগ্নি নির্বাপণে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, প্রতিবছরই দীঘিনালা ও বোয়ালখালী বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। তবে অগ্নিনির্বাপণের জন্য প্রয়োজনীয় জলাশয় ও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবিকে সামনে রেখে বাজারের বিভিন্ন দোকানে নতুন পণ্য মজুদ করা হয়েছিল। এমন সময়ে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত বছর একই দিনে দীঘিনালার লারমা স্কয়ার এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১২টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে যায়। সে সময় আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।

এছাড়া ২০২৪ সালে খাগড়াছড়ি সদরে এক যুবক নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীঘিনালায় পাহাড়ি-বাঙালি সহিংসতায় শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

 

Ads