পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার ও জননিরাপত্তা নিয়ে অর্ধ-বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ


পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার ও জননিরাপত্তা নিয়ে অর্ধ-বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ

 

পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার ও জননিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে অর্ধ-বার্ষিক পর্যালোচনা প্রতিবেদন-২০২৬ প্রকাশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)। সংগঠনটির দাবি, মাঠপর্যায়ে সংগৃহীত তথ্য, প্রাপ্ত অভিযোগ এবং নথিভুক্ত ঘটনার ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টায় খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান নিয়ে গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম ভৌগোলিক, প্রাকৃতিক ও কৌশলগত দিক থেকে বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। বাঙালি জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি ১১টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসবাসের কারণে এ অঞ্চল বহুসাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের অনন্য উদাহরণ হিসেবে পরিচিত।

প্রতিবেদনে সংগঠনটি দাবি করে, দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামে সক্রিয় বিভিন্ন আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা চালিয়ে আসছে। একই সঙ্গে হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও নির্যাতনসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনার অভিযোগও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে টেকসই শান্তি, ন্যায়বিচার এবং সব জনগোষ্ঠীর সমঅধিকার নিশ্চিত করতে বিদ্যমান নীতিমালা, আইন ও প্রশাসনিক কাঠামো সময়োপযোগীভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বাঙালি, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, বম, ম্রো, খিয়াং, পাংখোয়া, চাক ও লুসাইসহ পার্বত্য জেলায় বসবাসরত সব জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার, সমঅংশীদারিত্ব এবং মর্যাদাপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পিসিএনপির খাগড়াছড়ি জেলা শাখার আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুল মজিদ, আহ্বায়ক সদস্য শাহাদাৎ হোসেন, এরশাদ হোসেন ও রবিউল হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি জালাল আহমেদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, সাবেক সভাপতি সুমন আহমেদ ও সোহেল রানা এবং খাগড়াছড়ি কলেজ শাখার সভাপতি মাকসুদুল আলম।

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানবাধিকার ও জননিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ অর্ধ-বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

Ads