খাগড়াছড়িতে স্থায়িত্বশীল স্বাস্থ্য অধিকার ফোরাম গঠন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা


খাগড়াছড়িতে স্থায়িত্বশীল স্বাস্থ্য অধিকার ফোরাম গঠন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা

ছবি: প্রতিদিনের চিত্র

খাগড়াছড়িতে ‘স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে চাই সমতা, জবাবদিহিতা ও অংশগ্রহণ’এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ‘স্থায়িত্বশীল স্বাস্থ্য অধিকার ফোরাম গঠন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট ২০২৬) জেলা শহরের মিলনপুরে হিলটপ গেস্ট হাউজের হলরুমে দিনব্যাপী এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের আয়োজনে কর্মশালায় সহযোগিতা করে সুইডেন সরকার ও স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা জাবারাং কল্যাণ সমিতি।

কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী, উন্নয়নকর্মী এবং স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা অংশ নেন।

কর্মশালায় স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় নাগরিকদের ভূমিকা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে স্থায়িত্বশীল স্বাস্থ্য অধিকার ফোরাম গঠনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করা, নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং স্বাস্থ্য অধিকারভিত্তিক সামাজিক উদ্যোগ গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। তবে স্বাস্থ্যখাতে অব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতার ঘাটতি ও চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবায় সমতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিকদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় গ্রুপ আলোচনা, মতবিনিময় ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সদস্যসচিব ও জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা।

এতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের প্রোগ্রাম ম্যানেজার রাজেশ কুমার অধিকারী, অ্যাডভোকেসি ম্যানেজার মোফাখখার মোরশেদ খান, জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সদস্য অংসুই মারমা ও নমিতা চাকমা এবং বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের কো-ফোকাল পারসন পূর্ণ বিকাশ ত্রিপুরা।

আয়োজকদের আশা, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গঠিত স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামগুলো স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত সমস্যা, দাবি ও প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবায় সমতা, জবাবদিহিতা ও নাগরিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি টেকসই ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

Ads