রাত থেকে পদ্মা-মেঘনায় মাছ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৮ পিএম


রাত থেকে পদ্মা-মেঘনায় মাছ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা

মা ইলিশ রক্ষায় বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ১২টা থেকে পদ্মা-মেঘনায় ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। এ সময় ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয়সহ সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে।

নিষেধাজ্ঞা চলবে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। এ সময়ে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনার প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকবে।

প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশকে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতে প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে নদীতে মাছ ধরার ওপর এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। নিষেধাজ্ঞা সফল করতে নদীসংলগ্ন খালের মুখ বন্ধ করার পাশাপাশি অভয়াশ্রম এলাকায় পাঁচটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার পদ্মা-মেঘনা নদীতে ২২ দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। এ সময় ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করা গেলে পরবর্তী সময়ে ইলিশের উৎপাদন ও প্রাচুর্য বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নদী ও ইলিশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে চাঁদপুর ‘ইলিশের বাড়ি’ হিসেবে পরিচিত। নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে এরই মধ্যে নদী থেকে নৌকা ও জাল তীরে তুলে নিয়েছেন জেলার ৫০ হাজারের বেশি জেলে। কেউ নৌকা মেরামত করছেন, আবার কেউ জাল শুকিয়ে সংরক্ষণ করছেন।

নিষেধাজ্ঞার সময়ে চাঁদপুর জেলার নিবন্ধিত ৪১ হাজার ৩৯০টি জেলে পরিবারকে ২৫ কেজি করে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।

তবে জেলেদের দাবি, ২২ দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকায় তাদের আয়ও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে।

চাঁদপুরের এক জেলে তসর বলেন, নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকলে আয় বন্ধ হয়ে যায়। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। সরকারের খাদ্য সহায়তা কিছুটা উপকার করলেও শুধু তা দিয়ে ২২ দিন সংসার চালানো কঠিন।

জেলেরা জানান, মাছ ধরতে না পারলেও সংসারের খরচ, সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা, নৌকা ও জাল মেরামতের ব্যয় থাকে। এর সঙ্গে ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপও রয়েছে।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, মা ইলিশের প্রজননের জন্য ২২ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে ৪১ হাজার ৩৯০টি জেলে পরিবারকে ২৫ কেজি করে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে কেউ নদীতে নামলে ছাড় দেওয়া হবে না। মৎস্য বিভাগ, প্রশাসন, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও নৌবাহিনী যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করবে। নদীতে নজরদারিও বাড়ানো হবে।

চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজমগীর হোসাইন বলেন, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নদীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি থাকবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ নদীতে নামলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে প্রশাসনও প্রস্তুত রয়েছে। পুরো সময়জুড়ে নদীতে কঠোর নজরদারি থাকবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকার করলে কমপক্ষে ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং জেলে কার্ড বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেরা যাতে ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপে না পড়েন, সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ইলিশের প্রজনন বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে উৎপাদন ও জেলেদের জীবন-জীবিকায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

Ads