কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা জবাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৩ জুন ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম


কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা জবাব

 

লমান কূটনৈতিক তৎপরতা ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে। হরমুজ প্রণালির কৌশলগত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘কেশম দ্বীপে’ ‘আত্মরক্ষামূলক’ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে ইরান। বুধবার (৩ জুন) ভোরে কেশম দ্বীপে দফায় দফায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের পর দুই দেশের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সম্পদ ও উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে ইরানের ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করতে তারা এই ‘আত্মরক্ষামূলক’ হামলা চালিয়েছে। মার্কিন বাহিনীর মূল লক্ষ্য ছিল কেশম দ্বীপের একটি ইরানি সামরিক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র।

এর আগে, হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইরানের দিকে যাওয়া একটি খালি তেলবাহী ট্যাংকারে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে সেটিকে অচল করে দেয় মার্কিন নৌবাহিনী। সেন্টকম জানায়, বতসোয়ানার পতাকাবাহী ওই জাহাজটি বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় সেটির ইঞ্জিন কক্ষে হামলা চালানো হয়। মঙ্গলবার এই হামলার একটি ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

মার্কিন হামলার পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। তেহরানের দাবি, কেশম দ্বীপের দক্ষিণে একটি যোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন হামলার প্রতিবাদে তারা এই অঞ্চলের একটি দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, বুধবার ভোরে কেশম দ্বীপের সুজা ও মাসেন এলাকার মাঝামাঝি একটি জনবসতিহীন অঞ্চলে কয়েকটি শক্তিশালী প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। আধা-সরকারি মেহর বার্তাসংস্থাও দ্বীপে দফায় দফায় বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে। তবে খালি তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হামলার বিষয়ে ইরান এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি করেছে কুয়েতের দিকে ছোড়া ইরানের ২টি এবং বাহরাইনের দিকে ছোড়া ৩টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। পাশাপাশি বেসামরিক জাহাজে হামলা করতে যাওয়া ৩টি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে মার্কিন বাহিনী।

অপর দিকে ইরান দাবি করছে মার্কিন আকাশসীমা লঙ্ঘন ও অবকাঠামোতে হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে সফলভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের ওপর স্মরণকালের ভয়াবহ বিমান হামলা চালায়। ওই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়ে দেয়।

পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল দুই পক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও কোনো স্থায়ী সমঝোতা আসেনি। আজকের এই প্রত্যক্ষ সংঘাতের পর সেই যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেস্তে গেল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি বিশ্লেষকরা। নতুন এই উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

Ads